ঘুষ নিয়ে দর কষাকষির অডিও সামাজিক মাধ্যমে, এবার ওসিকে বদলি

নিজস্ব সংবাদদাতা, নেত্রকোণা

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় চোরাই পথে আনা ভারতীয় প্রসাধনী ছাড়াতে ঘুষের দর-কষাকষির অভিযোগে পুলিশের এক উপপরিদর্শককে (এসআই) প্রত্যাহারের পর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেনকে বদলি করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে বদলি করা হয়। আজ শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার।

তিনি বলেন, তাকে কেন্দুয়া থানার পেমই তদন্ত কেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে।

গত বুধবার রাতে ঘুষ নিয়ে দর কষাকষির অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের উপ-পরিরর্শক আবু হানিফাকে প্রত্যাহার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বুধবার রাতে জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানান। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

তিনি জানান, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি পিকআপ থেকে ১৮ বস্তা বডি স্প্রে, শ্যাম্পু, অলিভ অয়েলসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করে।

এ সময় পিকআপের চালক নাজিরপুরের শিংপুর মো. নাছিম (২৩) ও তার সহকারী সেইচাহানি গ্রামের মনির হোসেনকে (২১) আটক করা হয়। পরে এই দুজন এবং উপজেলার রাজনগর গ্রামের জসিম উদ্দিনসহ (৩৫) পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের হয়।

এরপর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুটি অডিওতে এসআই আবু হানিফা ও জসিম উদ্দিনের ঘুষ নিয়ে দর কষাকষির অভিযোগ ওঠে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফা ও জসিম উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।

অডিওতে ওসির কথাও আসে। এ নিয়ে জানতে চাইলে গতকাল সকালে তিনি বলেছিলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই।’