খুমেক হাসপাতালে আগুন, সরিয়ে নেওয়ার সময় আইসিইউ রোগীর মৃত্যু

নিজস্ব সংবাদদাতা, খুলনা

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে আজ বুধবার ভোরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।

আজ বুধবার সকাল ৬টার দিকে হাসপাতালের চারতলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি স্টোররুমে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর মুহূর্তেই ধোঁয়ায় ঢেকে যায় অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ও পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ড। আতঙ্কিত রোগী ও স্বজনরা হুড়োহুড়ি করে নিচে নামতে শুরু করলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

আগুনের এই ঘটনায় হাসপাতালের একজন স্টাফ, তিনজন নার্স এবং ফায়ার সার্ভিসের একজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি। এর সঙ্গে আগুনের আতঙ্কে সরিয়ে নেওয়ার সময় এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক সরকার মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘ভোর ৬টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে বয়রা স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। পরে আরও সাতটি ইউনিট যোগ দেয়। চারতলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি স্টোররুমে আগুন লাগে।’

তিনি বলেন, ‘শুরুতে উদ্ধারকাজে কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিল, কারণ সব গেটে তালা লাগানো ছিল। তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। প্রথমে বারান্দা থেকে চার থেকে পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর আর কাউকে হতাহত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।’

রোগী ও স্বজনরা জানান, যখন আগুন লাগে, তখন বেশিরভাগ মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন। স্টোররুমে আগুন লাগার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জরুরি ওটির বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে যায়। আতঙ্কে সবাই হাসপাতালের মাঠে নেমে আশ্রয় নেন। অনেকে রোগীদের অন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে আগুনের আতঙ্কে আইসিইউ (নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র) থেকে সরিয়ে নেওয়ার সময় নাসরিন নাহার নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, কয়রা উপজেলার নেছার আলীর মেয়ে নাসরিন জন্মগত ডায়াবেটিসজনিত জটিলতায় গত রোববার হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি ভেন্টিলেশন সাপোর্টে ছিলেন।

আইসিইউ বিভাগের প্রধান দিলীপ কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘আইসিইউতে তখন মোট ১৫ জন রোগী ছিলেন। সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে নাসরিন নাহারের স্বজনরা তাকে নিজেরাই নিচে নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথেই তার মৃত্যু হয়।’

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক কাজী আইনুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, হাসপাতালের তিনজন নার্স, একজন স্টাফ এবং ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের পাশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।