আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ: যে ২ প্রস্তাব দিলো তদন্ত কমিটি
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় সম্প্রতি বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার ঘটনা তদন্ত শেষে দুটি প্রস্তাব দিয়েছে ৬ সদস্যের মেডিকেল টিম।
প্রস্তাবনা দুটি হলো—শ্রমিকদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে কাউন্সেলিং করা এবং সুনির্দিষ্ট কারণ নিরূপণে আরও উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিকেল টিম গঠন করে তদন্ত।
আজ বৃহস্পতিবার সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফজলে বারী দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৬ সদস্যের মেডিকেল টিমের এ তদন্ত কমিটি গতকাল বুধবার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে জানান তিনি।
চলতি সপ্তাহে আশুলিয়ার আমতলা, জিরাবো, পুকুরপাড় এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের হঠাৎ করেই অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. সাইদুল ইসলামকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি করা হয়।
ডা. ফজলে বারী জানান, তদন্ত কমিটির সদস্যরা ৩০ জুন ৬টি কারখানা পরিদর্শন করে শ্রমিক, কর্মকর্তা, অসুস্থ শ্রমিক, কারখানার মেডিকেল টিমের সদস্য এবং অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসা দেওয়া বেসরকারি হাসপাতালগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন।
বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা শ্রমিকদের চিকিৎসা দেওয়ার পর তারা সুস্থ বোধ করেন এবং স্বেচ্ছায় হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, অসুস্থ শ্রমিকরা মাথা ঘোরা, বমি ভাব ও দুর্বলতা অনুভব করেন। তাদের মধ্যে কেউ বাড়ি থেকে খাবার খেয়ে এসেছিলেন, কেউ না খেয়েই কাজে এসেছিলেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের কোনো খাবার দেয়নি।
প্রাথমিকভাবে তাদের কারখানার নিজস্ব মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে সুস্থ বোধ করায় অনেককে ছুটি দিয়ে বাসায় বিশ্রামের জন্য পাঠানো হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পরও যারা অসুস্থ বোধ করেন, তাদের পাশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে রেফার করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্ত কমিটি গত ৩০ জুন আশুলিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও শ্রম অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আশুলিয়ার ওই কারখানাগুলো পরিদর্শন করেন।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে বারী বলেন, 'তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কমিটি কারখানাগুলো পরিদর্শন করে তেমন কোনো সমস্যা দেখতে পায়নি। কমিটির পক্ষ থেকে দুটি প্রস্তাবনা এসেছে। সেগুলো বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি।'
