আইসিইউতে কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু
প্রায় ১১ মাস কারাবন্দি থাকার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ওরফে মনির খান (৪৮)। সম্প্রতি আইসিইউ বেডে তার হাতে হাতকড়া পরা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি মারা যান। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মিজানুর রহমান পটুয়াখালী সদর উপজেলার বাহালগাছিয়া গ্রামের প্রয়াত আব্দুল খালেক খানের ছেলে। তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।
এছাড়া, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা ছাত্রলীগের সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ফেডারেশনের সহ-সভাপতিও ছিলেন।
তার ভাগ্নে সিরাজ মুন্সী জানান, গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে মনির খান ও তার স্ত্রী সালমা জাহানকে জুলাইয়ের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আরও কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রায় ১১ মাস তিনি কারাগারে ছিলেন। তার স্ত্রী সদর উপজেলার কালিকাপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সালমা জাহান তিন মামলায় ছয় মাস কারাভোগের পর বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
সালমা জাহান জানান, চলতি বছরের ১৪ জুন মনির খানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন বিভাগের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। এরপর তার আর জ্ঞান ফেরেনি।
তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতালে ভর্তির পর হওয়ার প্রায় এক মাস তার স্বামী হাতকড়া পরা অবস্থায় ছিলেন। হাসপাতালে ভর্তির কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি স্মৃতিশক্তি হারান এবং কাউকে চিনতে পারছিলেন না।
তিনি আরও জানান, ৯ জুন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে মনির খান হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পর্যায়ক্রমে ঢাকা মেডিকেল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল এবং জাতীয় স্নায়ুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সবশেষে তাকে ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আইসিইউতে হাতকড়া পরা রোগীর ছবিটি তার স্বামীরই ছিল বলে নিশ্চিত করেন সালমা জাহান। তিনি বলেন, চিকিৎসকের কাছ থেকে অবস্থার অবনতির কথা জানার পর স্বজনদের অনুরোধে পুলিশ হাতকড়া খুলে দেয়।
মনির খানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এইচ এম সারোয়ার হোসেন বলেন, কয়েকটি মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলায় কারামুক্ত হওয়া সম্ভব হয়নি।