মেঘনাঘাট পাওয়ার কর্মীদের মুনাফার বকেয়া আদায়ের সরকারি সিদ্ধান্ত হাইকোর্টে বহাল

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

১৯১৩ সালের ‘পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি অ্যাক্টের’ অধীনে মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড থেকে কর্মীদের মুনাফার বকেয়া আদায়ের সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সার্টিফিকেট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের বাধা দূর হয়েছে।

সার্টিফিকেট মামলাগুলোর বৈধতা ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের সরকারি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কোম্পানির করা সব রিট পিটিশনও আদালত খারিজ করে দিয়েছেন।

পিটিশনগুলোর ওপর শুনানি শেষে আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন।

শ্রমিকদের আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর সাদাত দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এ রায়ের ফলে সার্টিফিকেট প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া বা কর্মীদের বকেয়া আদায়ের জন্য সরকারের অন্যান্য পদক্ষেপের ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না।

এই বিরোধের সূত্রপাত কোম্পানির শ্রমিকদের করা একটি রিট পিটিশন থেকে। রিটে তারা শ্রম আইন অনুযায়ী সরকারি হস্তক্ষেপ চেয়েছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, মেঘনাঘাট পাওয়ার আইন অনুযায়ী বার্ষিক নিট মুনাফার ৫ শতাংশ শ্রমিকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি।

২০১৬ সালের ৮ জুন হাইকোর্ট ২০০৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সময়ের জন্য কোম্পানির বার্ষিক নিট মুনাফায় শ্রমিকদের প্রাপ্য অংশ পরিশোধ নিশ্চিত করতে সরকারকে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

কোম্পানিটি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করে। কিন্তু ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি আপিলটি খারিজ হয়ে যায়।

সর্বোচ্চ আদালতের আদেশের পর সরকার কোম্পানিকে শ্রমিকদের আইনসম্মত মুনাফার অংশ পরিশোধ করার নির্দেশ দেয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, সরকারের পক্ষ থেকে বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও কোম্পানিটি তা পালনে ব্যর্থ হয়।

এতে কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালে শ্রমিকদের পাওনা আদায়ের জন্য ১৯১৩ সালের গণদাবি আদায় আইনের অধীনে সার্টিফিকেট কার্যক্রম শুরু করে।

শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সরকার কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের সিদ্ধান্তও নেয়।

পরে  সার্টিফিকেট কার্যক্রম ও প্রস্তাবিত ফৌজদারি পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে বেশ কয়েকটি রিট পিটিশন দায়ের করে মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড।

সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর হাইকোর্ট সব পিটিশন খারিজ করে দেয় এবং এর মাধ্যমে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের বৈধতা নিশ্চিত করে।

মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেডের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শেখ মো. মোরশেদ। শ্রমিকদের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট ওমর সাদাত, ব্যারিস্টার আবির আব্বাস চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট আলী আজগর ফয়সাল এবং সরকারের পক্ষে একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।

উচ্চ আদালতের আজকের আদেশ সম্পর্কে ব্যারিস্টার ওমর সাদাত বলেন, বাংলাদেশের খেটে খাওয়া শ্রমিকদের লভ্যাংশের পাওনা আদায়ের ব্যাপারে সরকারের যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেটি আদালতের এই আদেশের ফলে অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশি কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশি শ্রমিকদের ঠকানোর চেষ্টা হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে কঠিন হয়ে গেল।