কারাবন্দি মায়েদের সঙ্গে আছে প্রায় ৩০০ শিশু: সমাজসেবা অধিদপ্তর
দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে বর্তমানে প্রায় ৩০০ শিশু বসবাস করছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এসব শিশুর নিরাপত্তা ও সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে বিকল্প পারিবারিক পরিচর্যায় কিংবা সরকারি শিশু পরিবারে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে আদালতে দাখিলের জন্য অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষা ইউনিট ও প্রবেশন শাখা যৌথভাবে প্রতিবেদনটি তৈরি করে।
এতে বলা হয়েছে, মাঠপর্যায় থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের কারাগারগুলোতে বর্তমানে বন্দি মায়েদের সঙ্গে প্রায় ২৯৮ থেকে ৩০৩টি শিশু রয়েছে। প্রবেশন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে প্রবেশন অ্যান্ড আফটার কেয়ার সার্ভিস নিয়মিত এসব শিশুর প্রাথমিক বিকাশ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে খেলনা, পোশাক ও পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দীর্ঘ মেয়াদে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য কারাগারের পরিবেশ অনুকূল নয়।
এ কারণে নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছানোর পর বা নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হলে বন্দি মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় নিকটাত্মীয়দের কাছে পালক পরিচর্যায় অথবা বিকল্প পারিবারিক ব্যবস্থায় রাখার সুপারিশ করেছে অধিদপ্তর।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আত্মীয়দের কাছে রাখা সম্ভব না হলে বা সেখানে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকলে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সরকারি শিশু পরিবার কিংবা উপযুক্ত অন্য কোনো নিরাপদ আবাসিক প্রতিষ্ঠানে তাদের রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ দীপার করা একটি জনস্বার্থমূলক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেশের কারাগারগুলোতে বন্দি মায়েদের সঙ্গে বসবাসকারী শিশুর সংখ্যা জানতে চেয়েছিলেন।
একই সঙ্গে এসব শিশুর নিরাপত্তা, কল্যাণ, শিক্ষা, বিকাশ ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।
সম্প্রতি প্রতিবেদনটির একটি অনুলিপি পেয়েছেন আইনজীবী কামরুন নাহার।
আজ সোমবার তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, বার্ষিক অবকাশ শেষে প্রয়োজনীয় নির্দেশনার জন্য তিনি প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করবেন।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট—উভয় বিভাগে অবকাশ শুরু হয়। আগামী ২৫ অক্টোবর আদালতের কার্যক্রম শুরু হবে।