ডেইলি স্টার-প্রথম আলো অফিসে হামলার প্রতিবাদে সারাদেশে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ, জড়িতদের শাস্তি দাবি

By স্টার অনলাইন রিপোর্ট

ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন সাংবাদিকরা।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামলায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। অব্যাহত বিচারহীনতা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়াবে বলেও সতর্ক করেছেন সাংবাদিকরা।

গাজীপুর

দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে গাজীপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শতাধিক গণমাধ্যমকর্মী।

আজ রোববার দুপুরে গাজীপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।

গাজীপুর প্রেসক্লাবের তত্ত্বাবধায়কমণ্ডলীর আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, 'সংবাদপত্রের ওপর হামলার উদ্দেশ্য জনগণ বুঝে গেছে। নির্বাচন বানচাল করতেই এ ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।'

তিনি আরও বলেন, 'সাংবাদিকরা বেঁচে থাকতে দেশে মব সৃষ্টির চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না।'

দৈনিক যুগান্তরের জেলা প্রতিনিধি শাহ সামসুল হক রিপন বলেন, 'পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্ট চলছে। সরকারকে এসব কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।'

এটিএন নিউজের স্টাফ রিপোর্টার মাজহারুল ইসলাম মাসুম বলেন, 'যারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব চায় না, তারাই প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে আগুন দিয়েছে।'

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিত এবং গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি। বলেন, '২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীরা গ্রেপ্তার না হলে আবারও আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো আমরা।'

মানববন্ধনে দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, যুগান্তর, দেশ রূপান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের শতাধিক সাংবাদিক অংশ নেন।

সাতক্ষীরা

saatkssiiraa.jpeg
সাতক্ষীরায় সাংবাদিকদের মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরায় আজ রোববার সকাল ১১টার দিকে শহরের নিউমার্কেট মোড়ে জেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সাংবাদিকরা বলেন, হামলা,ভঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে সংবাদপত্রের কণ্ঠস্বরকে দমন করতে পারবেন না।

বক্তারা বলেন, 'জুলাই আন্দোলনের সময় সাহসী ভূমিকা পালন করেছিল দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো। তখনো এসব গণমাধ্যমকে ভয় দেখানোসহ দেশকে অস্থিতিশীল করার বৃহত্তর ষড়যন্ত্র হয়েছিলো।'

বারবার হত্যা এবং সাংবাদিকদের উপর হামলার পরও, সরকারের প্রতিক্রিয়া কেবলমাত্র বিবৃতিতে সীমাবদ্ধ ছিল উল্লেখ করে তারা বলেন, 'অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা খুব কমই নেওয়া হয়েছিল।'

প্রথম আলো এবং দ্য ডেইলি স্টারে হামলায় জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান সাতক্ষীরার সাংবাদিকরা।

একইসঙ্গে খুলনার ডুমুরিয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমদাদুল হককে হত্যা,ময়মনসিংহে দীপু কুমার দাসকে নৃশংসভাবে হত্যা এবং লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়ে এক শিশুর প্রাণহানির ঘটনার নিন্দা জানান তারা।

প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কামেশের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম বেলাল হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, কল্যাণ ব্যানার্জি, মমতাজ আহমেদ, আসাদুজ্জামান, শেখ ফরিদ আহমেদ, রঘুনাথ খানসহ অনেকে।

সিলেট

সিলেটে দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (ইএমজেএ)। 

বিবৃতিতে ইএমজেএ সভাপতি আশরাফুল কবির ও সাধারণ সম্পাদক সাকিব আহমেদ মিঠু বলেছেন, 'নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রত্যাশা থাকা স্বত্ত্বেও একের পর এক অযৌক্তিক হামলা চালানো হয়েছে।'

দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

একইসঙ্গে সারাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইএমজেএ।

কুমিল্লা

কুমিল্লার মানববন্ধন করেছেন সচেতন নাগরিক, শিল্পী, সাংস্কৃতিককর্মী ও সাংবাদিকরা।

আজ রোববার সন্ধ্যায় কান্দিরপাড়ে টাউনহলের সামনে 'কুমিল্লার সংস্কৃতি কর্মী ও শিল্পী সমাজ' এবং 'কুমিল্লায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ'- এই দুটি ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক (ফারুক) বলেন, 'যারা রাতের অন্ধকারে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভকে গলাটিপে ধরতে চেয়েছিলো, তাদের ধিক্কার জানাই। আমরা বলতে চাই এভাবে হামলা চালিয়ে গণমাধ্যমের কন্ঠরোধ করা যাবে না।'

প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান বলেন, 'বিগত সরকারের আমলে ১৫-১৬ বছর নির্যাতিত ছিলো প্রথম আলো-ডেইলি স্টার, আজ আবার তারা আক্রান্ত।'

অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে বিচারের সম্মুখীন করে সাংবাদিক ও সংস্কৃতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানান বক্তারা।  

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে গণমাধ্যমকর্মীসহ কুমিল্লার সব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।

নোয়াখালী

একই ঘটনায় নোয়াখালীর চাটখিল প্রেসক্লাবে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় বক্তারা জাতীয় দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেয়ার ঘটনাকে দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন এবং লজ্জাজনক অ্যাখ্যা দেন।

তারা বলেন 'সাংবাদিকরা যখনই সত্য প্রকাশের চেষ্টা করেন, তখনই তাদের ওপর হামলা-আক্রমণ হয়। নির্যাতন ও হয়রানির সম্মুখীন হতে হয় তাদের।'

প্রেসক্লাবের সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, 'গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। তবে গণমাধ্যম কর্মীরা সব দিক থেকে অবহেলিত।'

প্রধান উপদেষ্টা এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে সাংবাদিকদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ভাতা চালুর দাবি জানান তিনি।

চাটখিল প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ জসিম মাহমুদের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন, দীন মোহাম্মদ, মনির হোসেন, রহমত উল্লাহ, গোলাম সারওয়ার ও মোজাম্মেল হক লিটন।