জনগণের জন্য ক্ষতিকর কাজ করলে ঘাড় ধরে বের করে দেওয়া হবে: আফরোজা খানম রিতা

নিজস্ব সংবাদদাতা, মানিকগঞ্জ

বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, ‘দুর্নীতি এবং জনগণের জন্য ক্ষতিকর কোনো কাজ সহ্য করা হবে না। দুর্নীতিমুক্ত থেকে সততা, ন্যায়নিষ্ঠতা ও আদর্শ নিয়ে কাজ করতে হবে। জনগণের জন্য ক্ষতিকর কোনো কাজ করলে ঘাড় ধরে বের করে দেওয়া হবে।’

আজ রোববার দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি দেন।

আফরোজা খানম রিতা বলেন, ‘রাস্তাঘাট, সেতু জনগণের কল্যাণের জন্য। কেউ যদি ১০০ ভাগ কাজের মধ্যে ৬০ ভাগ চুরি করেন, তাহলে তো সবই শেষ হয়ে যাবে। দুর্নীতি থেকে সবাইকে দূরে থাকতে হবে। সততা, ন্যায়নিষ্ঠতা, আদর্শ নিয়ে কাজ করলে মানুষের হৃদয়ে স্থান পাওয়া যায়।’

তিনি বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দুর্নীতির দুর্নাম যেন আমাদের বহন করতে না হয়, সবাইকে সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। কেউ দুর্নীতি করলে, জনগণের ক্ষতি করলে, প্রমাণিত হলে ঘাড় ধরে বের করে দেবো। আমার কাছে কোনো ছাড় নেই।’

সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আফরোজা খানম বলেন, ‘সরকারের নির্দেশিত কাজগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করাই আপনাদের দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কল্যাণে দিনরাত কাজ করে চলেছেন। ১৭ বছর কষ্ট করে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে এই সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকারের সুনাম ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদেরও। বিগত সময়ে কে কি করেছেন, বাদ দিলাম। এখন থেকে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ভালো কাজ করলে পুরস্কার পাবেন।’

তিনি বলেন, ‘কাজের প্রতিবেদন দেখে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রত্যেকের কাজের মূল্যায়ন করা হবে। অনেক সমস্যা, অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। এরপরও জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করে যেতে হবে। এই সমস্যা, সীমাবদ্ধতা আমরা ধীরে ধীরে সমাধান করবো। জনগণকে আশ্বস্ত করতে হবে যে আমরা তাদের জন্য কাজ করতে এসেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত আছেন, আপনারা সততার সঙ্গে কাজ করবেন।’

সড়ক উন্নয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি যেন কোনোরকম উল্টাপাল্টা না শুনি। যদি শুনি, তাহলে অফিস থেকে বের করে দেবো। আমি কিন্তু কোনো অন্যায় বরদাস্ত করবো না। জনগণের অনেক কষ্টের ফসল এই রাস্তাঘাট। সেই রাস্তাঘাট করতে গিয়ে ইঞ্জিনিয়াররা অনেক গাফিলতি করেন। অনেক ক্ষেত্রে কন্ট্রাক্টররা সাব-কন্ট্রাক্টরদের দিয়ে কাজ করান। সেই কাজ করতে করতে নিঃস্ব হয়ে যায়। এই সাব-কন্ট্রাক্টরদের দিয়ে যেন কাজ না হয়। কাজ সেই কন্ট্রাক্টরকে দিতে হবে যেন সাব-কন্ট্রাক্টরকে করতে না হয়।’

‘তিনি যদি আমার দলের লোকও হয়, তবুও তাকে কাজ দেবেন না। যোগ্য কন্ট্রাক্টরকেই কাজ দিতে হবে। কাজ সম্পর্কে যার ধারণা আছে, তাকেই দিতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী নাসরিনের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানেরা নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম তুলে ধরেন।