হালদায় ডিম ছেড়েছে মা মাছ
টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও বজ্রপাতের পর চট্টগ্রামের হালদা নদীতে নমুনা ডিম ছাড়তে শুরু করেছে রুই জাতীয় মা মাছ।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাটা শুরু হওয়ার পর হালদার বিভিন্ন পয়েন্টে ডিম পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংগ্রহকারীরা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, নদীর মদুনাঘাট থেকে সত্তারঘাট পর্যন্ত এলাকায় মূলত মা মাছ ডিম ছাড়ে। এই এরিয়ার রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলার নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ডিম পাওয়া যায়। গতকাল বুধবার ও আজ সকালেও নমুনা ডিম ছাড়ে মা মাছ।
তিনি বলেন, সংগ্রহকারীরা ডিম সংগ্রহ শুরু করেছেন। তারা বালতিতে করে ডিম হ্যাচারিগুলো নিয়ে আসছেন। তবে এখনো পুরোদমে ডিম ছাড়েনি মাছ।
সালমা বেগম বলেন, চৈত্র থেকে আষাঢ় মাসের মধ্যে পূর্ণিমা বা অমাবস্যার তিথিতে বজ্রসহ বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল নামলে হালদার মা মাছ ডিম ছাড়ে। যেহেতু আজ পূর্ণিমা, তাই আশা করছি আজই মা মাছ পুরোপুরি ডিম ছাড়বে।
হাটহাজারীরর গড়দুয়ার ডিম সংগ্রহকারী আবুল ফজল ডেইলি স্টারকে বলেন, মা মাছ ডিম ছাড়লেও সংগ্রহের পরিমাণ খুব কম। রাতে পুরোদমে ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
খাগড়াছড়িতে উৎপত্তি হওয়া হালদা চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলার প্রায় ৯৮ কিলোমিটার এলাকা বয়ে কর্ণফুলীতে মিশেছে।
হালদা গবেষক ও বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মনজুরুল কিবরীয়া ডেইলি স্টারকে বলেন, রাত ৮টার দিকে হালদায় ডিম উৎসব হতে পারে। কারণ সেসময় ভাটার জো চলবে।
হালদা নদী থেকে অন্তত ৪০০ জন সংগ্রহকারী প্রতিবছর ডিম সংগ্রহ করে সেগুলো থেকে পোনা উৎপাদন করেন। যদিও এই খাতের সঙ্গে কয়েক হাজার মানুষ জড়িত। পরে সেগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চাষের জন্য নিয়ে যান খামারিরা।
অধ্যাপক মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, হালদা দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক নদী, যেখান থেকে রুই জাতীয় মাছের ডিম সরাসরি সংগ্রহ করা সম্ভব। এই নদীর মাছের ডিমের পোনার সুনাম দেশজুড়ে। এগুলো খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
হালদা থেকে ২০২০ সালে ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি, ২০২১ সালে ৮ হাজার ৫০০ কেজি, ২০২৩ সালে ১৪ হাজার ৬৬৪ কেজি, ২০২৪ সালে ১ হাজার ৬৮০ কেজি ও সর্বশেষ বছর প্রায় ১৪ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে।