বৃষ্টির মধ্যে ফ্লাইওভার উপচে পড়ছে পানি, ভোগান্তিতে চট্টগ্রামবাসী

সিফায়াত উল্লাহ
সিফায়াত উল্লাহ

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে বৃষ্টিতে জমা পানি হঠাৎ করে নিচে পড়ছে। এতে সড়ক দিয়ে চলাচল করা যাত্রীরা ভিজে যাচ্ছেন এবং যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

ড্রেনেজ ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ না করায় মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত ফ্লাইওভারের বৃষ্টির পানি পাইপ দিয়ে না গিয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে উপচে নিচে পড়ছে।

এতে সাধারণত পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীরা পড়ছেন দুর্ভোগে।

নাসিরাবাদ এলাকার একটি পেট্রল পাম্পের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোমিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ উপর থেকে আমার গায়ে পানি পড়ল। এক সেকেন্ডে পুরো ভিজে গেলাম।'

বিপ্লব উদ্যান এলাকায় ভিজে একাকার হন মোমিন। তিনি জানান, হঠাৎ ভিজে যাওয়ায় তাকে আবার বাসায় ফিরে পোশাক পাল্টে বের হতে হয়।

ফ্লাইওভার
ফ্লাইওভার থেকে পানি উপচে পড়ে ভোগান্তিতে পড়ছে চট্টগ্রাম নগরবাসী। ছবি: রাজীব রায়হান/স্টার

সম্প্রতি ফ্লাইওভারের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে বৃষ্টির সময় এবং পরে প্রবল বেগে পানি নিচে পড়ছে। কোনো কোনো এলাকায় পানির গতি এত বেশি ছিল যে, তা সাময়িকভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে পানির চাপে সাইকেল, মোটরসাইকেল ও রিকশার গতি কমাতে হচ্ছে।

নগরবাসীর মতে, বর্ষাকালে চট্টগ্রামের সড়কে এমনিতেই চলাচল কঠিন। এর মধ্যে ফ্লাইওভার থেকে পানি পড়া নতুন ঝামেলা হিসেবে সামনে এসেছে।

মোটরসাইকেল চালক মোহাম্মদ রুবেল বলেন, 'হঠাৎ পানি পড়লে সামনে আর দেখা যায় না। চালানোর সময় ব্যালেন্সও নষ্ট হয়। রাস্তা আগে থেকেই পিচ্ছিল থাকে, আর পানি পড়ার কারণে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা আরও বাড়ে।'

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করেছিল চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। পরে নিয়ম অনুযায়ী সেটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। 
বর্তমানে চসিকের প্রকৌশল বিভাগ এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে।

জিইসি মোড় এলাকার মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন বেশ কয়েকবছর ধরে বর্ষায় এই সমস্যা দেখছেন। তিনি জানান, জিইসির পেনিনসুলা পয়েন্টের কাছে ফ্লাইওভার থেকে পানি উপচে পড়ে। এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চললেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, পানি যদি সরাসরি রাস্তায় পড়ে তবে তা হয় নকশার ত্রুটির কারণে কিংবা ড্রেনেজ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণের অভাব।

যোগাযোগ করা হলে চসিকের ড্রেনেজ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিফাতুল করিম চৌধুরী বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, তার আওতাধীন এলাকার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ফ্লাইওভার থেকে পানি উপচে পড়ে।

রিফাতুল করিম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমাদের টিম ইতোমধ্যে ওই পয়েন্টগুলো পরিদর্শন করেছে। পাইপলাইনগুলো ফেটে গেছে। বৃষ্টি কমলে আমরা নতুন পাইপলাইন বসাবো।'

গত দুই বর্ষা মৌসুমে পাইপলাইন পরিবর্তন করা হয়নি বলেও জানান তিনি।