রোহিঙ্গা তরুণীকে জন্মসনদ: চট্টগ্রামে সাবেক কাউন্সিলরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

রোহিঙ্গা তরুণীকে জাতীয়তা ও জন্মসনদ দেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রামের সাবেক এক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও তিন রোহিঙ্গাসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ সোমবার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন বাদী হয়ে এই মামলা করেন।

মামলায় চসিকের ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ডের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইসমাইল ওরফে ইসমাইল বালি, একই ওয়ার্ডের জন্মনিবন্ধন সহকারী সুবর্ণা দত্ত, রোহিঙ্গা তরুণী অহিদা, পাসপোর্ট দালাল সিরাজুল ইসলাম এবং অহিদার কথিত বাবা-মা মোহাম্মদ ইসমাইল ও মেহেরজানকে আসামি করা হয়েছে। মোহাম্মদ ইসমাইল ও মেহেরজান উভয়েই রোহিঙ্গা।

উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন জানান, অহিদা নামের এক রোহিঙ্গা তরুণী আরেক রোহিঙ্গা মো. ইসমাইলকে পিতা সাজিয়ে ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইসমাইলের কাছ থেকে জাতীয়তা ও জন্মসনদ নেন। সেসময় তিনি ইসমাইলের ভোটার আইডি জমা দেন।

মামলার এজাহারের বর্ণনা দিয়ে শরীফ জানান, ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন অহিদা। সেখানেও তার পাসপোর্ট আবেদনে বাবার নাম মো. ইসমাইল ও মার নাম মেহেরজান উল্লেখ করে জরুরি প্রয়োজনে দালাল সিরাজুল ইসলামের নম্বর উল্লেখ করেন। তখন পাসপোর্ট অফিসে অহিদার আঙ্গুলের ছাপ রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের ডেটাবেজের সঙ্গে মিলে গেলে কর্মকর্তারা অহিদা ও সিরাজুলকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন এবং পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অহিদা পাসপোর্ট আবেদনে মো. ইসমাইল নামে ও মেহেরজান নামের যাদেরকে বাবা-মা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন তারা তার প্রকৃত বাবা-মা নন। তারাও রোহিঙ্গা এবং বর্তমানে সৌদি প্রবাসী। তারাও ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ড থেকে জাতীয়তা সনদ, জন্মসনদ নিয়ে ২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারি জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছেন।

মামলায় বলা হয়, ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইসমাইল বালি, জন্ম নিবন্ধন সহকারী সুবর্ণা দত্ত পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রোহিঙ্গা নাগরিককে বাংলাদেশি নাগরিক করার জন্য জাতীয়তা সনদ, জন্মসনদ দিয়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ও পাসপোর্ট আবেদন প্রত্যয়ন ও সত্যায়ন করে অপরাধ করেছেন। আর সিরাজুল ইসলাম দালাল হিসেবে কাজ করেছেন।

বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ইসমাইল বালিকে গত ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে কেন্দ্রে প্রবেশ করে ইভিএম মেশিন ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন ইসমাইল বালি।