‘সবাই জানে আমার উইকেটের কোনো মূল্য নেই’

স্পোর্টস রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে

৫ ওভার ২ বলে দলের ৩১ রানে আউট হলেন ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম। ১৭৭ রান তাড়ায় একেবারে আদর্শ শুরু নয়। এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে অবাক করে ওয়ানডাউনে নেমে গেলেন মাশরাফি মর্তুজা। টার্গেট ‘ঝড় বক মরে’ টাইপ ইনিংস খেলবেন। ‘গ্যাম্বলিং’ বেশ কাজে লাগলো।

তিনে নেমে ১৭ বলে ৪২ করলেন রংপুর অধিনায়ক। তিন ছক্কার সঙ্গে মেরেছেন চারটি বাউন্ডারি। গেইলের মতো ব্যাটিং দানবকে একপাশে রেখেও মন্থর রানের চাকাকে তিনিই করলেন গতিময়।

‘তিনে আসার কারণ… আসলে স্লগ করার জন্য। রানটাও তখন হচ্ছিল না। আগের দুই ম্যাচেও আসার চিন্তা ছিল। কোনো কারণে হয়নি। আজকে শিশির ছিল, স্পিনাররা টার্ন না পেলে ভালো খেলা সম্ভব। ভাবলাম চেষ্টা করে দেখি। কাজে লেগে গেছে। আসলে কিছু সিদ্ধান্ত ‘আউট অব দা বক্স’ না নিলে এ ধরনের ম্যাচ জেতা কঠিন।’

আরও একটি রোমাঞ্চকর ম্যাচ জিতল রংপুর। এবারও শেষ বল পর্যন্ত উত্তাপ ছড়ানো ম্যাচে হাসিটা মাশরাফিদের। এবার ব্যাট হাতে অবদান অধিনায়কের। নামার সময় কি চাপ ছিল?

‘চাপ না। আমি আসলে যখন ব্যাটিংয়ে নামি, সবাই জানে যে আমার উইকেটের কোনো মূল্য নেই। আমি সেই সুবিধা নিতে চাই। চেষ্টা করি দ্রুত কিছু রান করতে। এটিই উদ্দেশ্য থাকে। ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠার কোনো ইচ্ছা নিয়ে আমি নামি না। নিজের প্রতি বা দলেরও ও রকম আশা রাখি না যে আমি গিয়ে রান করব। রান করতে পারলে ভালো।’

বিপিএলের তৃতীয় আসরে হারতে থাকা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ব্যাট হাতেই জাগিয়ে দেন মাশরাফি। ওই আসরে অনেকবারই নেমেছেন উপরের দিকে। এবারও ব্যাটিং পজিশন এগিয়ে এসে নেমেছেন। পরিস্থিতি দাবি করলে মাশরাফিকে উপরে ব্যাট করতে নাকি আরও দেখা যেতে পারে, ‘ইউ নেভার নো! পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। যেটা বললাম, কোনো আশা নিয়ে নামি না। সামনে করলে হয়ত আমার বিপক্ষে যেতে পারে কোনো দিন। আজকেও যেতে পারত। শট খেলতে গিয়ে আউট হতে পারতাম। আবার ভালোও করতে পারি…।’