কুমিল্লার কাছে পাত্তাই পেল না খুলনা

স্পোর্টস রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে

বল হাতে জেতার পথ সুগম করে রেখেছিলেন শোয়েব মালিক, আল-আমিনরা। রান তাড়ায় আগ্রাসী ছিলেন তামিম ইকবাল।  মুখোমুখি প্রথম দেখায় টেবিলের এক নম্বরে থাকা খুলনা টাইটান্সকে পাত্তায়ই দেয়নি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। 

মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে খুলনার দেওয়া ১১২ রানের লক্ষ্য ৩৭ বল আগেই পেরিয়ে যায় তামিমরা। এতে ৯ খেলায় ৬ষ্ঠ জয় তুলে টেবিলের দুই নম্বরে উঠে এসেছে কুমিল্লা। ১০ ম্যাচে তিন নম্বর হারের স্বাদ পেলেও আপাতত টেবিলের উপরেই থাকছে মাহমুদউল্লাহর দল।  

১১২ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়ায় আগ্রাসী শুরুর হাবভাব নিয়ে নেমেছিলেন তামিম ইকবাল। আফিফ হোসেনের প্রথম ওভার থেকেই তিন বাউন্ডারি দিয়ে শুরু। এরপর খেলেছেন চোখ জুড়ানো সব শট। অন সাইডে কাট করে পেয়েছেন বাউন্ডারি, পুল করে স্কয়ার লেগ দিয়ে পাঠিয়েছেন সীমানার বাইরে, ড্যান্সিং ডাউন দ্য উইকেটে এসে সোজা খেলেছেন লফটেড ড্রাইভ।

ছন্দে না থাকায় এক ম্যাচ বাইরে ছিলেন লিটন দাস। ফিরে ফের নামেন ওপেনিংয়ে। ৬৪ রানের জুটিতে ৪৩ রানই তামিমের। লিটন  আউট হয়েছেন বিশের ঘরে। কাইল অ্যাবটের শর্ট বল পুল করতে গিয়েছিলেন। টপ এজ হয়ে মিড উইকেটে যায় সহজ ক্যাচ। ২০ বলে ২১ রানে থামে লিটনের দৌঁড়।

তামিম ছিলেন অবিচল। খেলেছেন সাবলীল। ৩০ বলে তুলে নেন টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয় ফিফটি। খুলনার সবাই  মিলে মেরেছেন ১৩টি চার, ফিফটিতে পৌঁছাতে তামিম একাই মেরেছেন ১০ চার। পরে মেরেছেন আরও দুটি। দলকে জিতিতে অধিনায়ক অপরাজিত ছিলেন ৪২ বলে ৬৪ রান করে। তামিমের সঙ্গে ২২ রান করে স্বস্তিতে মাঠ ছেড়েছেন ইমরুল কায়েস।

Al-Amin Hossain
২০ রানে ৩ উইকেট নেন আল-আমিন হোসেন। ছবি: প্রবীর দাস
ঠিক আগের দিন আগে ব্যাট করে ২১৩ রান তুলে দাপটের সঙ্গে ম্যাচ জিতেছিল খুলনা টাইটান্স। সেই প্রেরণা থেকেই বোধহয় টস জিতে ফের ব্যাটিং নিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। তবে এবার হলো উলটো গল্প। ব্যাট হাতে  নেমেই ধংস্বস্তুপ খুলনার ইনিংস। প্রথম ওভার থেকেই শুরু উইকেট পতনের মিছিল। প্রায় প্রতি ওভারেই পড়েছে একটা করে উইকেট। তাদের নাজেহাল করে ছেড়েছেন আল-আমিন, শোয়েব মালিকরা। আগের দিনের চেয়ে তারা এবার করতে পেরেছে ১০২ রান কম। ফলও স্বাভাবিক কারণেই হয়েছে ভিন্ন।

রাইলি রুশোকে আউট করে অফ স্পিনার মেহেদী হাসান শুরুটা করে দিয়েছিলেন। পরের ওভার থেকে তাতে যোগ দেন শোয়েব মালিক। তিন ওভারের স্পেলে প্রতি ওভারেই নিয়েছেন একটি করে উইকেট। দিয়েছেন মাত্র ১৪ রান।

দুই স্পিনারের উইকেট নেওয়া দেখে তেতে উঠেন পেসাররাও। সাইফুদ্দিন এসেই আউট করেন মাহমুদউল্লাহকে। ব্র্যাথওয়েটকে ছেঁটে ফেলেন আল-আমিন। পরের ওভারে জোফরা আর্চারকে কট বিহাইন্ড করে আরেক উইকেট নেন আল-আমিন। ৭ ওভারে ৭৪ রানেই টাইটান্স হারায় ৭ উইকেট।

ধুঁকতে থাকা টাইটান্সদের ভরসা দিচ্ছিলেন কেবল আরিফুল হক। ৫ রান পর তাকেও উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানান আল-আমিন। বাকিটা সময় টেল-এন্ডাররা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে রান বাড়িয়েছেন। দলকে পার করেছেন ১০০ রানের কোটা। কাইল অ্যাবট ও শফিউল ইসলাম দুজনেই ১৬ রান করে না করলে তিন অঙ্কও অনেক দূরের পথ ছিল টাইটান্সের। শেষ দুই উইকেট নিয়ে ডোয়াইন ব্রাভো ও হাসান আলি মুড়েছেন টাইটান্স ইনিংস। অর্ধেক পথেই খেলার ফল অনেকটাই নির্ধারিত হয়ে যায়। পরে বল হাতেও বিশেষ কিছু করতে পারেনি খুলনা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

খুলনা টাইটান্স:১১১/১০  (শান্ত ৮, রুশো ০, আফিফ ৮, মাহমুদউল্লাহ ১৪, পুরান ০, আরিফুল ২৪ , ব্র্যাথওয়েট ১৩, আর্চার ৫,  অ্যবট ১৬, শফিউল ১৬, রাহি ৫  ; মেহেদী ১/৮, মালিক ৩/১৪, আলি ১/২১, সাইফুদ্দিন ১/১৯, আল-আমিন ৩/২০, ব্রাভো ১/২৯)

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স:১১২/১ (তামিম ৬৪* , লিটন ২১, কায়েস ২২*  ; আফিফ ০/২২, অ্যাবট ১/২৭, আর্চার ০/১৬, শফিউল ০/১৭, জায়েদ ০/১৬, ,মাহমুদউল্লাহ ০/৯, রুশো ০/৫)

টস: খুলনা টাইটান্স
ফল: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৯ উইকেটে জয়ী। 
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শোয়েব মালিক