‘তুষার-রাজ্জাকদের সম্মান দিচ্ছেন খেলোয়াড়রা’

স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রায় এক যুগ ধরে জাতীয় দলের বাইরে তুষার ইমরান। আব্দুর রাজ্জাকও জাতীয় দলে নেই পাঁচ বছর হলো। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে না থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে অনন্য রেকর্ড গড়ে গেল সপ্তাহে আলোয় এসেছেন এই দুজন। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তুষার ছুঁয়েছেন ১০ হাজার রানের মাইলফলক। আব্দুর রাজ্জাক পৌঁছেছেন ৫০০ উইকেটের ঘরে। এই দুজন জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সম্মান পাচ্ছেন বলে জানালেন মাশরাফি মর্তুজা।

বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে ত্রিদেশীয় সিরিজের বাইরে উঠে এসেছিল তুষার আর রাজ্জাকের প্রসঙ্গ। মাশরাফি জানালেন, ‘ খেলোয়াড়দের কাছ থেকে যদি বলেন তারা অবশ্যই পাচ্ছে (সম্মান)। আমরা একটু আগে বাসে আসার সময়ও তাদের নিয়ে কথা বলছিলাম। তুষার ইমরান ১০ হাজার রান করেছে, রাজ্জাক ৫০০ উইকেট পেয়েছে। তাদের যে সম্মানটা মন থেকে দেওয়া দরকার খেলোয়াড়দের দিক থেকে দেওয়া হচ্ছে। তাদের সঙ্গে কথা বললেই আমার বিশ্বাস আপনারা এটা পরিষ্কার হবেন।’

tushar imran
এই দুজন জাতীয় দল তো নয়ই, সুযোগ পাচ্ছেন না জাতীয় পর্যায়ের কোন দলেই। তবু বছরের পর বছর পারফর্ম করে যাচ্ছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। তাদের নিবেদন অনুকরণীয় মনে করেন মাশরাফি, ‘আমি মনে করি না তাদের সামর্থ্য নাই। তাদের একেকজনের বয়স ৩৬-৩৭ কিন্তু এখনো তারা ক্লাবের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ। যে ডেডিকেশন নিয়ে খেলে যাচ্ছে সেটা অনেক বড়, তাদের ফলো করা উচিত।’

Abdur Razzak
কেবল সাকিব – তামিম না উঠতি খেলোয়াড়রদের তুষার-রাজ্জাকদের কাছ থেকেও শিক্ষা নিতে বললেন মাশরাফি,  ‘নতুন বা উঠতি খেলোয়াড়দের অনেক কিছু শেখার আছে। আমাদের মানসিকতা থাকে, সাকিব-তামিম-মাশরাফি-মুশফিকরা কী বলছে সেটা ফলো করা। আমি মনে করি তাদের (তুষার-রাজ্জাক) কাছ থেকে শিখে এসে এখানে খেলা উচিত। ক্রিকেট নিয়ে ডেডিকেশন থাকলে কী করা যায়।’

২০০০-২০০১ মৌসুম থেকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলছেন তুষার। এক মৌসুম পরই শুরু করেছিলেন রাজ্জাক। দুজনেই দিব্যি খেলে যাচ্ছেন এখনো। এই ধারাবাহিকতার প্রতি শ্রদ্ধা বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়কের,  ‘ফার্স্ট ক্লাসে ৫০০ বা ১০ হাজার কোনো হেলাফেলা নয়। এটা আসলেই করে ফেলবে এমন কিছু নয়। সেজন্য তাদের ১৭-১৮ বছর খেলতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সব না। সুস্থ থেকে এতদিন খেলে গেছে, তাদের যে সম্মানটা দেওয়া দরকার সেটা খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে আমরা দিতে চাই এবং দিচ্ছি।’