‘অবদানের তুলনায় হয়তো খুব বড় কিছু নয়’, অধিনায়কদের কার্ড দিয়ে বললেন তামিম

ক্রীড়া প্রতিবেদক

১৯৭৭ থেকে ২০২৬—এই ৪৯ বছরে জাতীয় দলে নেতৃত্ব দেওয়া ২৭ পুরুষ ও ৬ নারী অধিনায়কের জন্য বিশেষ সুবিধাসম্বলিত ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ বিতরণ করল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সদ্য দায়িত্ব নেওয়া বোর্ড প্রধান ও সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল বাকি অধিনায়কদের হাতে এই কার্ড তুলে দিয়ে বললেন, তাদের অবদানের তুলনায় এটি বড় কিছু নয়।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৭ থেকে স্বীকৃত ক্রিকেটে যাত্রা শুরু বাংলাদেশের। তখন থেকে বিসিবির অধীনে বিভিন্ন পর্যায়ে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৩৩ জন নারী ও পুরুষ ক্রিকেটার। তাদের সবার জন্যই তৈরি করা হয় ক্যাপ্টেনস কার্ড। তবে রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে আয়োজিত কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে নানা কারণে সবাই উপস্থিত হতে পারেননি।

কার্ড বিতরণের আগে নিজের বক্তব্যে তামিম বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের আজ যে বিশাল পরিধি, এর পেছনে যাদের অবদান, তাদের কারণেই এই ক্রিকেট বোর্ড আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছে। তারা হয়তো আজকের মতো অর্থ বা মিডিয়া কাভারেজ পাননি, কিন্তু কেবল ক্রিকেটকে ভালোবেসে এবং প্যাশনের কারণেই খেলেছেন; তাদের প্রতি আমাদের সত্যিকারের সম্মান থাকা উচিত।’

‘এই 'ক্যাপ্টেনস কার্ড' তাদের অবদানের তুলনায় হয়তো খুব বড় কিছু নয়, তবে এটি একটি ভালো শুরু। আমাদের অধিনায়কদের মনে সবসময় একটি ইনসিকিউরিটি কাজ করে—মাঠে প্রবেশের সময় যদি তাদের কেউ না চেনে বা থামিয়ে দেয়, তবে তাদের সম্মান থাকবে কি না। আমাদের কারণে এই ক্রিকেট আজ যেখানে দাঁড়িয়ে, তাদের মনে এমন চিন্তা আসা আমাদের জন্য দুঃখজনক।’

তামিম জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশের খেলা হলে বিনামূল্যে মাঠে প্রবেশের অধিকার পাবেন তারা। থাকবে ভিভিআইপি কার পার্কিং সুবিধা, স্বাস্থ্য বীমা এবং ২৪ ঘণ্টা বিসিবির চিকিৎসকদের সাহায্য নেওয়ার সুযোগ। এছাড়াও বিসিবি আরও উন্নতি করলে তাদের সুবিধা আরও বাড়ানো হবে।

অধিনায়কদের অবশ্য মাঠে বিনামূল্যে খেলা দেখার অধিকার আগেও ছিল। তবে সেই ‘ফ্রি পাস’ নিতে হলে আগে যোগাযোগ করতে হতো। এখন থেকে কার্ডটি সঙ্গে থাকলে আর আগে থেকে জানানোর প্রয়োজন হবে না।

যারা পেলেন ক্যাপ্টেনস কার্ড 

১৯৭৭ থেকে বর্তমান পর্যন্ত সব নারী ও পুরুষ অধিনায়ক।

পুরুষ 

শামীম কবির, রকিবুল হাসান, শফিকুল হক হীরা, গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, ফারুক আহমেদ, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, আকরাম খান, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, নাঈমুর রহমান দুর্জয়, খালেদ মাসুদ পাইলট, খালেদ মাহমুদ সুজন, হাবিবুল বাশার সুমন, শাহরিয়ার নাফীস, রাজিন সালেহ, মোহাম্মদ আশরাফুল, মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুমিনুল হক, লিটন দাস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নুরুল হাসান সোহান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ ও জাকের আলি অনিক।

নারী

তাজকিয়া আক্তার, সালমা খাতুন, জাহানারা আলম, রুমানা আহমেদ, ফাহিমা খাতুন ও নিগার সুলতানা জ্যোতি।

উপস্থিত হতে পারেননি- শামীম কবির (প্রয়াত), ফারুক আহমেদ (দেশের বাইরে), আমিনুল ইসলাম বুলবুল (যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি), নাঈমুর রহমান দুর্জয় (কারাগারে আছেন), খালেদ মাসুদ পাইলট (ঢাকার বাইরে), মাশরাফি বিন মর্তুজা (রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে), সাকিব আল হাসান (রাজনৈতিক কারণে দেশের বাইরে), তাজকিয়া আক্তার, সালমা খাতুন (ঢাকার বাইরে), ফাহিমা খাতুন (জাতীয় দলের ক্যাম্পে রাজশাহী), নিগার সুলতানা জ্যোতি (জাতীয় দলের ক্যাম্পে রাজশাহী)।