বিদায়ী আয়োজনে সম্মানিত, আবেগাক্রান্ত রুবেল
সতীর্থদের কাছ থেকে ভালোবাসা আর ক্রিকেট বোর্ডের আনুষ্ঠানিক সম্মান পেয়ে রুবেল হোসেন ছুটলেন মিরপুরের বাইশগজের দিকে। পুত্রকে পাশে নিয়ে পিচের মাটি স্পর্শ করে নিলেন। অন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়া পেসার রুবেল হোসেন বিশেষ সম্মাননা পেয়ে বললেন, তিনি গর্বিত ও কৃতজ্ঞ।
সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন সেই ২০২১ সালে, ঘরোয়া ক্রিকেটেও রুবেলকে দেখা যায় না। তবে অবসর ঘোষণাটা দেননি তিনি। গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিদায় বার্তা দেন তিনি।

বাংলাদেশের হয়ে ২৭টি টেস্ট, ১০৪টি ওয়ানডে ও ২৮টি খেলা ডানহাতি পেসারের জন্য সোমবার সংবর্ধনার আয়োজন করে বিসিবি। বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে মিরপুরে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল উপস্থিত হয়ে তার হাতে তুলে দেন রুবেলের জার্সি সম্বলিত একটা ফ্রেম, ক্রেস্ট।
রুবেলের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে উজ্জ্বল মুহুর্ত ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ। তার মোড় ঘরোনো দুই বলে সেদিন ম্যাচ জিতেছিলো বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে থাকা সতীর্থ তাসকিন করেন স্মৃতিচারণ, ‘আমার এখনও মনে আছে ২০১৫ সালের ওয়ার্ল্ড কাপে ইংল্যান্ডের সাথে ম্যাচটা এমন একটা কঠিন পরিস্থিতি ছিল এবং দুই বলে দুইটা উইকেট নিয়ে আপনি আমাদেরকে কোয়ালিফাই করতে সাহায্য করছেন।’

নিজের বক্তব্যে রুবেল বলেন বিসিবির কাছ থেকে এমন সম্মাননা পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞ, ‘আমি যখন অবসর ঘোষণা করি আমার সোশ্যাল মিডিয়াতে তার পরবর্তী সময়ে আমার সঙ্গে আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট তামিম ইকবাল আমাকে ফোন দেন। ফোন দিয়ে আমাকে বলেন যে রুবেল তোকে আমরা সম্মানিত করতে চাই। তো যে বিষয়টা আমার কাছে খুবই গর্বের এবং আনন্দের ছিল এবং আজকে এত সুন্দর একটি পরিবেশ তৈরি করেছে এত সুন্দর ভাবে আমাকে সম্মানিত করেছে এজন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট তামিম ইকবালকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি।’
পেসার হান্ট প্রতিযোগিতা দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে উঠে আসা রুবেল নিজের উত্থানের পেছনে কোচ সারোয়ার ইমরানের অবদানের কথা স্মরণ করেন, ‘একটি মানুষের কথা না বললেই নয় আমার আজকের রুবেল হোসেন হওয়ার পিছনে যে মানুষটার অবদান আমার কাছে অন্যরকম। আমাকে পেসার হান্ট থেকে নিয়ে এসে যে মানুষটা আমাকে উপরে ওঠার সিঁড়ি ধরিয়ে দিয়েছে তিনি আমার প্রিয় কোচ আমার শ্রদ্ধেয় সারোয়ার ইমরান স্যার। স্যারের প্রতি আমি সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকব এবং স্যারের জন্য আমি ভবিষ্যতে শুভকামনা এবং তার সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনা করছি।’
তিন ফরম্যাট মিলিয়ে রুবেলের শিকার ১৯৩ উইকেট। এর মধ্যে টেস্ট ও ওয়ানডেতে একবার করে ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি।