মুশফিকের রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানকে পাহাড়সম লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ
অসীম ধৈর্য, নিখুঁত দায়িত্বশীলতা ও লড়াকু মনোভাবের পরিচয় দিয়ে অসাধারণ সেঞ্চুরি তুলে নিলেন মুশফিকুর রহিম। সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটারের রেকর্ডগড়া ইনিংসে ভর করে পাকিস্তানকে পাহাড়সম লক্ষ্য ছুড়ে দিল বাংলাদেশ। আলো কম থাকায় দিনের খেলা আগেভাগে শেষ হওয়ার আগে সফরকারীরা দুই ওভার ব্যাট করলেও কোনো রান পেল না।
সোমবার সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনটি ছিল মুশফিকময়। টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়ে চূড়ায় পৌঁছে যান ৩৯ বছর বয়সী তারকা। মুমিনুল হককে ছাড়িয়ে এই সংস্করণে এখন এককভাবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ান তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হওয়ার আগে মুশফিকের ব্যাটে চড়ে টাইগাররা স্কোরবোর্ডে জমা করে ৩৯০ রান। প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড থাকায় পাকিস্তানের সামনে ৪৩৭ রানের কঠিন লক্ষ্য দিয়েছে তারা।
জিততে হলে সফরকারীদের গড়তে হবে বিশ্বরেকর্ড। কারণ টেস্টের দেড়শ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে জিততে পারেনি কোনো দল। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১৮ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের কীর্তি টিকে আছে দুই দশকের বেশি সময় ধরে।
সাদা পোশাকের সংস্করণে পাকিস্তানের চারশর বেশি রান তাড়ায় সফলতার কোনো নজির নেই। সর্বোচ্চ ৩৭৭ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে দলটি জিতেছিল ২০১৫ সালে, পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। টেস্টে বাংলাদেশের মাটিতেও চারশ ছাড়ানো লক্ষ্যের পেছনে ছুটে জয়ের ঘটনা কখনও ঘটেনি। ২০২১ সালে চট্টগ্রামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৩৯৫ রান করে জয়ী হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়া মুশফিক খেলেন ১৩৭ রানের ঝলমলে ইনিংস। ২৩৩ বল মোকাবিলায় তিনি ১২টি চার ও একটি ছক্কা মারেন। সাজিদ খানের বল উড়িয়ে মেরে ডিপ মিডউইকেটে মোহাম্মদ আব্বাসের তালুবন্দি হন এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। আব্বাসের বলে চার মেরেই তিন অঙ্কে পৌঁছেছিলেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি তার দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি।
নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে দিন শুরু করেছিলেন মুশফিক। মেঘলা আকাশ থাকায় শুরুতে বল মুভ করছিল। ভুগতে থাকা অবস্থায় আউট হয়ে যান বাংলাদেশের অধিনায়ক। অন্যদিকে, নিজেকে আরও সতর্ক করে থিতু হতে সময় নেন মুশফিক। তাড়াহুড়ো না করে এগোতে থাকেন ধীরলয়ে।
এরপর পঞ্চম উইকেটে লিটন দাসের সঙ্গে ১২৩ এবং সপ্তম উইকেটে তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ৭৭ রানের কার্যকর দুটি জুটি গড়েন মুশফিক। তার ব্যক্তিগত মাইলফলকের পাশাপাশি বাংলাদেশের লিড ছাড়িয়ে যায় চারশ। আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান লিটন ফিফটির দেখা পেয়ে ৯২ বলে পাঁচটি চারে ৬৯ রান করেন। তাইজুলের ব্যাট থেকে ৫১ বলে দুটি চারে আসে ২২ রান।
পাকিস্তানের পক্ষে ৮৬ রানে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট শিকার করেন খুররম শাহজাদ। ১২৬ রান খরচায় সাজিদ নেন ৩ উইকেট। ৮৩ রানের বিনিময়ে দুটি উইকেট যায় হাসান আলীর ঝুলিতে।
বাংলাদেশ অলআউট হওয়ার পর শেষবেলায় তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম একটি করে ওভার মেডেন নেন। পাকিস্তানের দুই ওপেনার আজান আওয়াইস ও আবদুল্লাহ ফজল আগামীকাল চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করবেন।