চোট ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভারতেও চলছে কথা চালাচালি

স্পোর্টস ডেস্ক

বাংলাদেশ দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার এখন চোট সমস্যায় ভুগছেন। সঙ্গে উঠেছে চোট ব্যবস্থাপনা ও বোর্ডের চিকিৎসা বিভাগ নিয়ে নানান প্রশ্ন। খেলোয়াড়রা পূর্ণ ফিট না হয়ে কীভাবে স্কোয়াডে আসছেন, কিংবা সুস্থ হতে কেন বেশি সময় লাগছে—এসব নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই প্রতিবেশী ভারতের ক্রিকেট বোর্ডেও (বিসিসিআই) একই বিষয় নিয়ে কথা চালাচালি দেখা গেল।

জাসপ্রিত বুমরাহ ও সাই সুদর্শনের চোট এবং দল থেকে বাদ পড়া নিয়ে বিসিসিআইয়ের ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ (সিওই)—যা আগে এনসিএ নামে পরিচিত ছিল—তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। তবে বোর্ডের চোট ব্যবস্থাপনা নীতি ও ফিটনেস প্রটোকলের পক্ষে জোরালো সাফাই গেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণ।

শ্রীলঙ্কা সফরে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজ শুরু হতে যাচ্ছে ভারতের। কিন্তু ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় শেষ মুহূর্তে স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন তারকা পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ এবং তিন নম্বর ব্যাটার সাই সুদর্শন। গত ২৮ জুলাই যখন টেস্ট দল ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন দুজনকেই শর্তসাপেক্ষে দলে রাখা হয়। তবে সফরে যাওয়ার ঠিক আগে ফিটনেস সনদ না পাওয়ায় তাদের বাদ দিতে হয়। বুমরাহের বিকল্প হিসেবে আকিব নবিকে দলে নেওয়া হলেও সুদর্শনের বদলি হিসেবে কারও নাম এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিসিসিআই, ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ ও দল ব্যবস্থাপনার মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতির অভিযোগ ওঠে। তবে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে লক্ষ্মণ জানান, পুরোটাই প্রটোকল মেনে করা হয়েছে।

লক্ষ্মণ বলেন, ‘সিওই, পুরুষ ও নারী দলগুলোর ব্যবস্থাপনা এবং স্পোর্টস সায়েন্স ও মেডিসিন (এসএসএম) বিভাগের মধ্যে যোগাযোগে কোনো ফাঁক নেই। এমনকি নির্বাচক কমিটির সঙ্গেও আমরা চমৎকার সমন্বয় রেখে কাজ করি।’

নির্বাচন ও খেলোয়াড়দের ফিটনেস পর্যালোচনার পুরো প্রক্রিয়াটি স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচকরা দলের জন্য কাউকে ভাবার আগে আমাদের কাছে প্লেয়ারের ফিটনেস রিপোর্ট চান। আমরা সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারের বর্তমান অবস্থা যাচাই করে তা নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান, দুই দলের প্রধান কোচ এবং বিসিসিআইকে পাঠাই।’

বুমরাহ ও সুদর্শনের প্রসঙ্গে সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার জানান, ‘দল ঘোষণার বিজ্ঞপ্তিতে দেখবেন খেলোয়াড়দের নামের পাশে তারকাচিহ্ন (*) থাকে। এর সহজ মানে হলো, খেলোয়াড়ের অন্তর্ভুক্তি ফিটনেস ক্লিয়ারেন্স সাপেক্ষে। বুমরাহ ও সুদর্শনের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছিল। পুনর্বাসনের এক ধাপ থেকে অন্য ধাপে যাওয়ার পর যদি কোনো খেলোয়াড়ের উন্নতির গতি ধীর হয়, আমরা সাথে সাথে নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রধান কোচকে তা জানাই। পুরোটাই খুব সাবলীলভাবে হয়।’

‘খেলোয়াড়রাও বোঝেন যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নামার মতো অবস্থায় তারা এখনও পৌঁছাননি। আমাদের মূল লক্ষ্য খেলোয়াড় ও দলের সুরক্ষা। তাছাড়া, যে প্লেয়ার ক্লিয়ারেন্স পাবে না, তার জায়গায় কে দলে ঢুকবে, সেটাও নির্বাচকদের আগাম জানা থাকে। এটা খুব সাধারণ একটি বিষয়,’ যোগ করেন লক্ষ্মণ।

পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে সিওই-র ভূমিকা কেবল ইনজুরি সারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, খেলোয়াড়দের রিটার্ন টু প্লে (আরটিপি) বা মাঠে ফেরার প্রটোকল পার হতে হয়। প্রথম ম্যাচ থেকেই যেন ক্রিকেটাররা শতভাগ দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে দুটি আরটিপি বা প্রস্তুতি ম্যাচও খেলানো হয়।

তবে লক্ষ্মণের মতে, মানবদেহের পুনর্গঠন কোনো ছকবাঁধা সময়ের সমীকরণ নয়। ‘আমরা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে খেলোয়াড়দের সুনির্দিষ্ট রিহ্যাব প্ল্যান দিই। স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং ও স্কিল ট্রেনিংয়ের পর ম্যাচ খেলিয়ে ফিটনেস নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে, এটা মানুষের শরীর, কোনো যন্ত্র নয় যে একটা নির্দিষ্ট সময়েই হুট করে ঠিক হয়ে যাবে।’

একই সুর বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার কণ্ঠেও। দল সফরের প্রায় তিন থেকে চার সপ্তাহ আগে নির্বাচকরা দল গঠন করেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু দল করার সময় প্লেয়ারের চূড়ান্ত ফিটনেস নিশ্চিত থাকে না, তাই তারকাচিহ্ন দেওয়া হয় যাতে খেলোয়াড়দের রিহ্যাবের সুযোগ থাকে। ২১ বা ২৮ দিনের রিহ্যাব শেষে কেউ ফিট হলে তাকে সুযোগ না দেওয়ার তো কারণ নেই। খেলোয়াড় যাতে বঞ্চিত না হন, তাই নির্বাচন ও বাদ পড়ার মাঝখানে এই প্রক্রিয়াটি রাখা হয়। তবে কার শরীর কত দ্রুত সাড়া দেবে, তা আগে থেকে শতভাগ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।’