‘দেখতে চেয়েছি, তারা কতটা তলানিতে নামতে পারে’

By ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)'র পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে কারা নির্বাচিত হচ্ছেন তারা অনুমিত ছিলো। সরকারের হস্তক্ষেপ, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতার নানা অভিযোগে ২১ প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর কী হতে যাচ্ছে তা আগে থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায়। কেবল একটা ক্যাটাগরি নিয়ে ছিলো অল্প-বিস্তর উত্তাপ। তবে তাতেও ক্ষমতাসীনদের আশির্বাদের বাইরে কিছু হয়নি।

ক্যাটেগরি-৩ থেকে প্রার্থী ছিলেন সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট ও দেবব্রত পাল। পাইলট সাবেক ক্রিকেটার কোটায় আর সাবেক ক্রিকেটার হয়েও দেবব্রত প্রার্থী হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর হিসেবে। ফলাফলে ৪৫ ভোটের মধ্যে কেবল ৭টি পান দেবব্রত। ৩৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন পাইলট।

ফল আসার পর গণমাধ্যমের সামনে হাজির হয়ে দেবব্রত বলেন, 'এখন তো মনে হচ্ছে, নিজের ভোটও আমি পাইনি'। বিষন্ন কণ্ঠে কথাগুলো বলার পর জানান বাকিরা সরে গেলেও প্রক্রিয়া মেনে শেষ পর্যন্ত কী হয় দেখতে চেয়েছিলেন তিনি, 'আমি বলেছিলাম, যা কিছুই হোক, শেষ পর্যন্ত খেলব। প্রথম দিনেই ঘোষণা দিয়েছিলাম, গতকালকেও আমি বলেছি, আজকেও সকালেও বলেছি যে, আমি শেষ পর্যন্ত দেখব। সেই সঙ্গে আমি এটাও কিন্তু বলেছি, বারবার বলেছি—ক্যাটাগরি এক এবং দুইয়ে যেভাবে নির্বাচন হয়েছে, তা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। নির্বাচন শুধুমাত্র নির্বাচনের দিন আপনারা যে ব্যালট পেপার দেখেন, সেটা নির্বাচনের রায় কিন্তু নয়।'

দেবব্রতর মতে ফলাফল জানা গিয়েছিলো আগেই, কাজেই এটা কোন অর্থে নির্বাচন নয়,  'গত প্রায় দুই মাস যাবত আমার নির্বাচনের অত্যন্ত প্রস্তুতি ছিল। নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কেও জানতাম। কিন্তু নিচে নামতে নামতে তারা এত তলানিতে পৌঁছাবে—এটা একজন সংগঠক হিসেবে, একজন সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে, এটা কখনোই অনুভব করতে পারিনি। আজকে যে নির্বাচনের ফলাফল হয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ…সেটা সম্পূর্ণ প্রভাবিত। ২৫টার মধ্যে (পরিচালক পদ) প্রায় ২৩- ২৪টা পেয়ে গিয়েছে একটি প্যানেল, যারা এই সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।'

সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ, অনিয়মে অভিযোগে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিএনপিপন্থী প্যানেলের ১৬ জন প্রার্থী সরে যান। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর চলে যান আরও ৫ জন। সব কিছু একপেশে হচ্ছে জেনেও কেন শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে ছিলেন সেই ব্যাখ্যা দেন এই ক্রিকেট সংগঠক ও ম্যাচ রেফারি,  'আমি দীর্ঘকাল যাবত এই ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত, একজন সংগঠক হিসেবে, দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর হিসেবে, আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন জড়িত। আপনারা অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, 'আপনি কেন তাহলে শেষ পর্যন্ত থাকলেন? আগে কেন বর্জনের ঘোষণা দিলেন না?' এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমি বিসিবির সম্মানিত সভাপতির সঙ্গে অনেকবার আমি কথা বলেছি। একটাই শুধু বারবার বলেছি যে নির্বাচন যেন নিরপেক্ষ হয়।'

দেবব্রত অভিযোগ যারা কাউন্সিলর বা ভোটার তারা অনেকেই বিসিবির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। কাজেই তারা নির্দেশনার বাইরে যেতে পারেননি,  'আপনি যদি কাউন্সিলরদের (ভোটার) দিকে তাকান, তাদের অনেকেই বিসিবির চুক্তিবদ্ধ হিসেবে চাকরিরত আছেন। তারপরও আমি কিছু বলিনি। কারণ, শেষ দেখতে চেয়েছিলাম। আজকেও বলেছি যে, আমি শেষ পর্যন্ত থাকব। আমি এই রেজাল্টের পরেও নির্বাচনের যে কপি থাকে, সেখানেও আমি সাইন করেছি। আমি একটি জায়গায় ব্যত্যয় করিনি। শুধু দেখতে চেয়েছি, তারা কতটা তলানিতে নামতে পারে।'

এই নির্বাচনকে ফিক্সিং বলেছিলেন তামিম, দেবব্রত বললেন এটা তারচেয়েও গভীর কিছু। তার ইঙ্গিত ক্রীড়া উপদেষ্টার দিকে, 'আমাদের একজন ক্রিকেটার কিন্তু একটা ফিক্সিংয়ের কথা বলেছিলেন, নির্বাচন ফিক্সিং। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, একটু সামনে তাকান ভাই, এই নির্বাচন শুধুমাত্র ফিক্সিংই নয়, এর ভেতরে আরও গভীর কিছু হয়েছে। এটার অনুসন্ধান করাটা অত্যন্ত প্রয়োজন।'

'আমরা অনেক কিছুই বুঝি। আপনারাও অনেক কিছু বোঝেন। এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে ক্রীড়ার সর্বোচ্চ ব্যক্তি জড়িত। তিনি বিভিন্ন সময় মিটিং করছেন, তিনি স্টেটমেন্টও দিচ্ছেন। কাজেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থানটা কোথায়, কোন দিকে যাচ্ছে, সেটা আপনারা বিবেচনা করবেন।'