এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে চ্যাম্পিয়ন রংপুর

By ক্রীড়া প্রতিবেদক

টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তটা সোনায় সোহাগা হলো রংপুর বিভাগের জন্য। কৌশলটা ছিল স্পষ্ট, প্রতিপক্ষকে সীমিত রেখে লক্ষ্যটাকে নাগালের ভেতর রাখা। সেই লক্ষ্যেই একে একে আটজন বোলারকে ব্যবহার করেন আকবর আলী, এবং প্রায় প্রত্যেকেই রাখেন কার্যকর অবদান। ফলাফলও এসেছে যথারীতি, খুলনা বিভাগের দেওয়া টার্গেটটা হয়ে দাঁড়ায় খুবই সামাল দেওয়ার মতো। এরপর ব্যাটারদের দায়িত্ব ছিল কেবল কাজটা শেষ করা, আর তারা সেটা করেছেন সহজ ভাবেই।

রোববার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টির ফাইনালে খুলনা বিভাগকে ৮ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় রংপুর বিভাগ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে খুলনা নির্ধারিত ২০ ওভারে করে ৮ উইকেটে ১৩৬ রান। জবাবে ১৮ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় রংপুর।

ব্যাটিংয়ে নেমেই শুরুতে বিপর্যয়ে পড়ে খুলনা। দুই ওপেনার ইমরানুজ্জামান ও সৌম্য সরকারসহ তিনে নামা এনামুল হক বিজয় তিনজনকেই ২১ রানের মধ্যেই হারিয়ে ফেলে দলটি। এরপরও গড়তে পারেনি উল্লেখযোগ্য কোনো জুটি। ষষ্ঠ উইকেটে অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর ৪২ রানের জুটিটিই ছিল দলের পক্ষে সর্বোচ্চ।

খুলনার ইনিংসে মিঠুন খেলেন সর্বোচ্চ ৪৪ রানের লড়াকু ইনিংস, ৩২ বলের এই ইনিংসে ছিল ১টি চার ও ৩টি ছক্কা। মৃত্যুঞ্জয় যোগ করেন ২৪ রান। তবে জাতীয় দলের আশেপাশে থাকা সৌম্য সরকার, আফিফ হোসেন ও এনামুল হক বিজয় ছিলেন সম্পূর্ণ ব্যর্থ। রংপুরের পক্ষে ১৫ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট তুলে নেন আব্দুল্লাহ আল মামুন।

জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই দাপট দেখান নাসির হোসেন ও জাহিদ জাভেদ। উদ্বোধনী জুটিতেই তোলেন ৬১ রান। জাভেদ আউট হওয়ার পর আবু হাসিমকে নিয়ে আরও ২৩ রানের জুটি গড়ে আফিফ হোসেনের বলে আউট হন নাসির। তবে এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আর খুলনার হাতে ফেরেনি। হাসিম ও নাইম ইসলাম অবিচ্ছিন্ন ৫৪ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।

রংপুরের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৬ রান আসে নাসিরের ব্যাট থেকে, ৩১ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজানো ইনিংস। ৩২ বলে ৫টি চার মেরে অপরাজিত ৪০ রান করেন আবু হাসিম। ওপেনার জাহিদ জাভেদ করেন ২৭ এবং নাইম ইসলাম অপরাজিত থাকেন ১৯ রানে।