কোমা থেকে জ্ঞান ফিরল মার্টিনের, ‘অলৌকিক’ বলছেন গিলক্রিস্ট

By স্পোর্টস ডেস্ক

মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে কৃত্রিম কোমায় থাকা অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ড্যামিয়েন মার্টিন জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন। তার প্রাক্তন সতীর্থ অ্যাডাম গিলক্রিস্ট এই ঘটনাকে 'একটি অলৌকিক বিষয়' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

৫৪ বছর বয়সী মার্টিন ১৯৯২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে অজিদের হয়ে ৬৭টি টেস্ট, ২০৮টি ওয়ানডে ও চারটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। গত মাসের শেষদিকে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন সাবেক এই ব্যাটারের মেনিনজাইটিস ধরা পড়ে। এটি মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের চারপাশ ঘিরে থাকা সুরক্ষা পর্দা বা ঝিল্লির এক ধরনের প্রদাহ বা তীব্র জ্বালাপোড়া।

মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হওয়ায় কিংবদন্তি মার্টিনকে কৃত্রিম কোমায় রাখা হয়। কৃত্রিম কোমা হলো একটি সাময়িক ও নিয়ন্ত্রিত গভীর অচেতন অবস্থা। গুরুতর আঘাতের পর মস্তিষ্কের অধিকতর ক্ষতি রোধ করতে চিকিৎসকরা সিডেটিভ ওষুধের মাধ্যমে রোগীর এই অবস্থা তৈরি করেন।

মার্টিনকে গোল্ড কোস্ট ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে রোববার গিলক্রিস্ট বলেন, 'গত ৪৮ ঘণ্টায় অবিশ্বাস্য সব ঘটনা ঘটেছে। সে এখন কথা বলতে পারছে এবং চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। কোমা থেকে ফিরে আসার পর সে এতটাই ভালোভাবে সুস্থ হয়ে উঠছে যে, তার পরিবারের কাছে এটি অলৌকিক বলে মনে হচ্ছে।'

গত এক সপ্তাহে ক্রিকেট বিশ্বের অনেক তারকা মার্টিনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন এবং ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও ভিভিএস লক্ষ্মণ।

স্টিভ ওয়াহর নেতৃত্বাধীন তৎকালীন শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ান স্কোয়াডের অন্যতম প্রধান সদস্য ছিলেন দৃষ্টিনন্দন স্ট্রোকমেকার হিসেবে পরিচিত মার্টিন। টেস্টে ১৩টি সেঞ্চুরিসহ ৪৬.৩৭ গড়ে ৪৪০৬ রান করেছেন তিনি। ওয়ানডেতে ৪০.৮০ গড়ে পাঁচটি সেঞ্চুরিসহ তার সংগ্রহ ৫৩৪৬ রান। টি-টোয়েন্টিতে ৩০ গড়ে করেছেন ১২০ রান।

২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী অজি দলেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন মার্টিন। সেই আসরের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে ম্যাচজয়ী জুটি গড়ার পথে তিনি অপরাজিত ৮৮ রান করেছিলেন। ২০০৬ সালে অ্যাশেজ চলাকালীন আকস্মিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন তিনি। এরপর থেকে প্রচারণার আড়ালে গিয়ে নিভৃত জীবনযাপন করছিলেন।