আর্থিক নিয়ম ভাঙায় শাস্তি, তৃতীয় স্তরে অবনমনের শঙ্কায় হামজার লেস্টার
এক দশক আগে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতে রূপকথা গড়েছিল লেস্টার সিটি। সেই তারাই এখন ইংলিশ ফুটবলের তৃতীয় স্তরে নেমে যাওয়ার মুখে! আর্থিক নিয়ম ভাঙার দায়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ক্লাবটির ৬ পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়েছে।
লেস্টারে খেলেন বাংলাদেশের তারকা মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। গত মৌসুমে ২০ দলের মধ্যে ১৮তম হওয়ায় প্রিমিয়ার লিগ থেকে চ্যাম্পিয়নশিপে (দ্বিতীয় স্তর) অবনমন ঘটে ক্লাবটির। এবার শাস্তির ফলে ২৪ দল নিয়ে আয়োজিত চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় ১৭তম থেকে ২০তম স্থানে নেমে গেছে তারা। কেবল গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকার কল্যাণে লেস্টার এখন অবনমন অঞ্চলের বাইরে আছে।
একটি স্বাধীন কমিশন জানিয়েছে, ২০২১-২২ থেকে ২০২৩-২৪ মৌসুম পর্যন্ত তিন বছরের সময়সীমায় লাভ ও টেকসই নীতি (পিএসআর) লঙ্ঘন করেছে লেস্টার। ওই সময়ে নির্ধারিত সীমার চেয়েও প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড বেশি লোকসান করেছে ক্লাবটি।
এক বিবৃতিতে ইংলিশ ফুটবল লিগ (ইএফএল) কর্তৃপক্ষের দেওয়া এই শাস্তিকে 'অসামঞ্জস্যপূর্ণ' দাবি করে লেস্টার বলেছে, তাদের উপস্থাপিত 'যৌক্তিক কারণগুলো' পর্যাপ্তভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ক্লাবটি যোগ করেছে, 'আমরা গঠনমূলকভাবে আলোচনা চালিয়ে যেতে এবং যে কোনো ব্যবস্থা যেন ন্যায়সংগত, সুসংগত ও যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'
মাঠের লড়াইয়েও লেস্টারের অবস্থা শোচনীয়। চ্যাম্পিয়নশিপে গত চার ম্যাচে তারা কোনো জয় পায়নি। শুধু তাই নয়, বর্তমানে ক্লাবটির কোনো স্থায়ী কোচ নেই। গত মাসে মার্তি সিফুয়েন্তেসকে বরখাস্ত করা হয়।
২০১৫-১৬ মৌসুমে অকল্পনীয়ভাবে প্রিমিয়ার লিগ জিতে ইতিহাস গড়েছিল লেস্টার। তারপর ২০২১ সালে এফএ কাপ জিতলেও ২০২২-২৩ মৌসুমে অবনমন ঘটে তাদের। এঞ্জো মারেস্কার অধীনে পরের মৌসুমে ইংল্যান্ডের শীর্ষ ফুটবল স্তরে ফিরলেও অভিজ্ঞতা সুখকর হয়নি। ৩৮ ম্যাচে মাত্র ৬ জয়ে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে ফের চ্যাম্পিয়নশিপে অবনমিত হয় তারা।
মাঠের বাইরে থেকে লেস্টারের শাস্তি পাওয়ার দুসংবাদ শুনেছেন চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়া হামজা। গত শনিবার চার্লটন অ্যাথলেটিকের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালে তিনি হাঁটুতে চোট পান। তিনি ডান হাঁটুর মিডিয়াল কোলাট্যারাল লিগামেন্টে (এমসিএল) চোট পেয়েছেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো অস্ত্রোপচার লাগবে না। সুস্থ হতে যদিও এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের অন্তত ছয় থেকে আট সপ্তাহ লাগবে।