অ্যাতলেতিকোর কাছে বিধ্বস্ত বার্সেলোনা, সতর্কবার্তা দেখছেন ফ্লিক
কোপা দেল রে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারার পর বার্সেলোনার প্রধান কোচ হ্যান্সি ফ্লিক এই পরাজয়কে আখ্যা দিলেন ‘ওয়েকআপ কল’ হিসেবে। শিরোপাধারীদের জন্য এটি ছিল চলতি মৌসুমে সবচেয়ে বড় হার, যা তাদের সামনে দ্বিতীয় পর্বের আগে কঠিন সমীকরণ দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামের তুমুল পরিবেশে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল অ্যাতলেতিকো। স্বাগতিকদের আগ্রাসী ফুটবলের সামনে ছন্দ খুঁজে পায়নি বার্সা। ফলে চার গোল হজম করে বড় ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় কাতালানদের। এখন দুই সপ্তাহ পর নিজেদের মাঠ কাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিতব্য ফিরতি পর্বে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন লড়াই।
ম্যাচ শেষে খোলামেলা বিশ্লেষণে ফ্লিক বলেন, “আমরা দল হিসেবে ভালো খেলিনি। দলগতভাবে ছন্দ না থাকলে ভালো খেলা সম্ভব নয়। খেলোয়াড়দের মধ্যে দূরত্ব ছিল অনেক বেশি, সমন্বয়ের অভাব ছিল স্পষ্ট। প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রেও ঘাটতি ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের ধাক্কা কখনও কখনও প্রয়োজন হয়। আজকের হার আমাদের জন্য সতর্কবার্তা। কঠিন পরাজয়, কিন্তু এই শিক্ষা আমাদের গ্রহণ করতেই হবে।”
জার্মান এই কোচ স্বীকার করেন, প্রথম বাঁশি থেকেই তার দল পিছিয়ে ছিল। যদিও বিরতির পর কিছুটা উন্নতির আভাস পেয়েছেন তিনি। “শুরু থেকেই আমরা ভালো ছিলাম না। আমাদের দল তরুণ, কিন্তু সেটি কোনো অজুহাত নয়। দ্বিতীয়ার্ধ তুলনামূলক ভালো হয়েছে। তবুও আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। সামনে দুইটি অর্ধ আছে, প্রতিটি অর্ধে দুইটি করে গোল শোধ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামব,” দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ফ্লিক।
অন্যদিকে আতলেতিকোর কোচ দিয়েগো সিমিওনে নিজের দল ও সমর্থকদের প্রশংসায় ভাসান। তার ভাষায়, “স্টেডিয়ামে অসাধারণ এক শক্তির উপস্থিতি ছিল, আর জীবন মানেই শক্তি। সেই শক্তি আমাদের সমর্থকদের দিক থেকে আমাদের দিকে এসেছে, আর আমরা তার জবাব দিতে পেরেছি।”
সিমেওনে যোগ করেন, “আমার মনে হয় আমরা দারুণ খেলেছি। শেষ পর্যন্ত ফল যা-ই হোক, আজকের ম্যাচ স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমাদের সমর্থকদের এমন গুরুত্বপূর্ণ রাত দরকার। আমরা তাদের উচ্ছ্বাসের সেরা প্রতিদান দিতে পেরেছি।”
দুই সপ্তাহ পর কাম্প ন্যুতে ফিরতি পর্বে মুখোমুখি হবে দুই দল।