‘নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার খাতিরে’ ইরানের বিশ্বকাপে আসা উচিত হবে না: ট্রাম্প

স্পোর্টস ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে আয়োজিত আগামী ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিলে ইরানের ফুটবলারদের 'জীবন ও নিরাপত্তা' ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেছেন। তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মাত্র দুদিন আগে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি জানিয়েছিলেন— মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চললেও ইরানি খেলোয়াড়দের যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানো হবে।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, 'ইরান জাতীয় ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত। তবে আমি মনে করি, নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার খাতিরে তাদের এখানে আসাটা উচিত হবে না।'

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধের ফলে এবারের গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ইনফান্তিনো চলতি সপ্তাহের শুরুতে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই বৈঠকে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পর মঙ্গলবার এক বার্তায় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রধান জানিয়েছিলেন— প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানি দলকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রে হতে যাওয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য স্বাগত জানানো হবে।

গত ডিসেম্বরে ইনফান্তিনো 'ফিফা শান্তি পুরস্কার' প্রবর্তন করেন এবং সেটি ট্রাম্পকে প্রদান করেন। তবে ফিফা প্রধান এবারই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করলেন।

এশিয়ান কাপে অংশ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত ইরানের নারী ফুটবলারদের বিষয়েও কথা বলেছেন ট্রাম্প। ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় দেশে ফিরলে শাস্তির মুখে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় থাকা নারী খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার সেই আহ্বানের পর অস্ট্রেলিয়া সরকার ইতোমধ্যে পাঁচজন নারী ফুটবলারকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে সম্মত হয়েছে।