শিরোপা 'কেড়ে নেওয়ায়' ক্রীড়া আদালতে গেল সেনেগাল
আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস (আফকন) এর শিরোপা কেড়ে নিয়ে মরক্কোকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতের (সিএএস) দ্বারস্থ হয়েছে সেনেগাল। বুধবার সুইজারল্যান্ড-ভিত্তিক এই আদালত নিশ্চিত করেছে যে, সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন (এফএসএফ) এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আপিল করেছে।
গত ১৮ জানুয়ারি আফকন ফাইনালের নির্ধারিত সময়ে খেলা গোলশূন্য ছিল। অতিরিক্ত আট মিনিট সময়ের একদম শেষ দিকে মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজকে সেনেগালের ফুটবলার ফাউল করলে ভিএআর দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান কঙ্গোর রেফারি জঁ-জাক এনডালা।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেনেগালের ফুটবলাররা মাঠ ছেড়ে চলে যান এবং প্রায় ২০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। পরে সাদিও মানে সতীর্থদের বুঝিয়ে মাঠে ফিরিয়ে আনলে খেলা পুনরায় শুরু হয়। মরক্কো পেনাল্টি মিস করলেও অতিরিক্ত সময়ে পাপে গেয়ির গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয় সেনেগাল।
গত ১৭ মার্চ আফ্রিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'সিএএফ' এক ঘোষণায় জানায়, মরক্কোর আপিল তারা গ্রহণ করেছে। নিয়ম অনুযায়ী খেলা চলাকালে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ায় সেনেগালকে শাস্তি হিসেবে 'পরাজিত' ঘোষণা করা হয়। সেনেগালের ১-০ গোলের জয়কে ৩-০ ব্যবধানের পরাজয় হিসেবে গণ্য করে আয়োজক মরক্কোকে নতুন চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই এখন আইনি লড়াই শুরু করেছে সেনেগাল। তাদের দাবি, সিএএফ-এর এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে তাদেরই বিজয়ী ঘোষণা করতে হবে। সিএএস-এর মহাপরিচালক ম্যাথিউ রিব জানিয়েছেন, তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখছেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করবেন।
এদিকে মরক্কো ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, তারা সেনেগালের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলছে না, বরং টুর্নামেন্টের নিয়ম মানার বিষয়েই তাদের আপত্তি ছিল।
অন্যদিকে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ফাইনালের সেই অপ্রীতিকর ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তবে বিতর্ক ছাপিয়ে দুই দলই এখন বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। প্রীতি ম্যাচে সেনেগাল মুখোমুখি হবে পেরুর, আর মরক্কো খেলবে ইকুয়েডর ও প্যারাগুয়ের সঙ্গে।