ঈদের পর ঢাকার কাঁচাবাজারে স্বস্তি, কমেছে সবজি ও মাংসের দাম

সুকান্ত হালদার
সুকান্ত হালদার

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগিসহ টমেটো, কাঁচা মরিচ, বেগুন, শসা ও করলার দাম কমতে শুরু করেছে। উৎসবের কারণে বাজারে ক্রেতা সমাগম কমে যাওয়া ও অবিক্রিত মজুদ পণ্য শেষ করার তাড়নায় চাহিদাও নিম্নমুখী, যার প্রভাব পড়েছে দামে।

খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে এখনো নতুন সবজির সরবরাহ শুরু হয়নি। নতুন চালান আসতে আরও তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে। এই সময়ের মধ্যে অনেক বিক্রেতা তাদের আগের মজুদ করা পণ্য দ্রুত বিক্রি করে দেওয়ার জন্য দাম কমিয়ে দিয়েছেন।

কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতা ফখরুল আলম জানান, ঈদের পর সবজির দামে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। ঈদের আগে যে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন তা ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় নেমে এসেছে।

একইভাবে, টমেটোর দাম কেজিপ্রতি ৩০-৪০ টাকা থেকে কমে ২০-২৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। পটল ১০০ টাকা থেকে কমে ৬০ টাকা ও বেগুন ৮০-১০০ টাকা থেকে কমে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করলার দামও কেজিপ্রতি ১০০-১২০ টাকা থেকে কমে ৬০-৭০ টাকায় নেমেছে। লেবু আগে প্রতিটি ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ১৫-২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

ফখরুল আলমের মতে, বাজারে পণ্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম, যা দাম কমার অন্যতম প্রধান কারণ।

ঈদের ঠিক আগে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গরুর মাংসের দাম ৭০০-৭৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫০-৮৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। তবে আজ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংসের দাম কমে বর্তমানে ৬৮০-৭৬০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, মুরগির বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩৩০-৩৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা কমে বর্তমানে ২১০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দামও সামান্য কমে ৬৪০-৬৮০ টাকায় নেমেছে।

শেওড়াপাড়া বাজারের মাংস বিক্রেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটি এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি, তাই বাজারে ক্রেতা কম। চাহিদা কম থাকায় আমরাও দাম কিছুটা কমিয়েছি। তিনি জানান, সকাল ১১টা পর্যন্ত তিনি এক কেজি মাংসও বিক্রি করতে পারেননি।

মাছের বাজারেও ক্রেতার খরা দেখা গেছে। সাধারণত ঈদের সময় মাংসের চাহিদা বেশি থাকায় মাছের চাহিদা কমে যায়। তবে ইলিশ ও চিংড়ির চাহিদা বরাবরই থাকে। ঈদের সময় এই দুই ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছিল। তবে বর্তমানে ইলিশের দাম কমলেও চিংড়ির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ঈদের দুদিন আগে বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা এখন ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় নেমেছে। ৪০০ গ্রামের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। 

তবে চিংড়ির দাম আগের মতোই কেজিপ্রতি ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় স্থির রয়েছে।

কারওয়ান বাজারের নিত্যপণ্য বিক্রেতা নাজমুল আলম জানান, বর্তমানে মূলত যারা ঢাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও যাদের রেস্তোরাঁ খোলা, তারাই বাজারে কেনাকাটা করতে আসছেন।

বাজার করতে আসা শফিকুল আলম চৌধুরী জানান, ঈদের ছুটিতে তিরি গ্রামে গিয়েছিলেন, আজই ঢাকা ফিরেছেন। বাসায় মেহমান আসবে বলে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে এসেছেন। তিনি বলেন, ঈদের আগে অনেক পণ্যের দাম চড়া থাকলেও এখন তা অনেকটাই কমেছে।