নাটকীয় লড়াইয়ে বায়ার্নের কাছে ফের হেরে বিদায় রিয়ালের
মিউনিখে এক মহাকাব্যিক লড়াই উপহার দিলেও শেষ পর্যন্ত বিদায়টাই সঙ্গী হলো রিয়াল মাদ্রিদের। অলৌকিক প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন একেবারে হাতছানি দিচ্ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় সবকিছু ভেস্তে যায়। শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় বায়ার্ন মিউনিখ, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ পিএসজি।
আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদকে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে বায়ার্ন। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে প্রথম লেগে তাদের ২-১ গোলে হারিয়েছিল দলটি। ফলে ফলে ৬-৪ ব্যবধানের অগ্রগামিতায় শেষ চার নিশ্চিত করে বাভারিয়ানরা।
ম্যাচের শুরুটা ছিল অবিশ্বাস্য। ম্যানুয়েল ন্যুয়ারের এক বড় ভুলে মাত্র ৩৫ সেকেন্ডেই এগিয়ে যায় রিয়াল, যখন আর্দা গুলারের দূরপাল্লার শটে ফাঁকা জালে বল জড়ান। তবে দ্রুতই ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বায়ার্ন। মাত্র ছয় মিনিটেই আলেকজান্ডার পাভলোভিচ কর্নার থেকে গোল করে সমতা ফেরান, যেখানে ভুল ছিল রিয়ালের গোলরক্ষক আন্দ্রে লুনিনের।
এরপর পুরো ম্যাচেই আধিপত্য দেখায় বায়ার্ন। তবুও পাল্টা আক্রমণে সুযোগ খুঁজতে থাকে রিয়াল। ২৬তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় তারা। গুলার দ্বিতীয় গোলটি করেন একটি ফ্রি-কিক থেকে। কিন্তু সেই লিড বেশিক্ষণ টেকেনি। ৩৮তম মিনিটে রিয়ালের রক্ষণভাগের ভুলে গোল করেন হ্যারি কেইন। এরপর ম্যাচের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ৪২তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপে গোল করে আবারও এগিয়ে দেন রিয়ালকে।
দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ প্রথমার্ধ শেষ হয় ৩-২ ব্যবধানে রিয়ালের পক্ষে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি কিছুটা কমলেও উত্তেজনা কমেনি। দুই দলই সুযোগ তৈরি করতে থাকে, কিন্তু গোলরক্ষকদের দৃঢ়তায় গোল আসছিল না।
ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৮৬তম মিনিটে, দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। একজন কম নিয়ে খেলতে থাকা রিয়াল তখন চাপে পড়ে যায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৮৯তম মিনিটে সমতা ফেরান লুইস দিয়াজ। আর যোগ করা সময়ে, ৯৪তম মিনিটে শেষ আঘাত হানেন মাইকেল ওলিস, নিশ্চিত করেন বায়ার্নের জয়।
শেষ বাঁশির পর রিয়াল খেলোয়াড়দের মধ্যে তীব্র হতাশা দেখা যায়। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে লাল কার্ড দেখেন গুলারও।