বয়কটের পথে রোনালদো? আল-নাসরের ম্যাচের আগে অস্থিরতা

স্পোর্টস ডেস্ক

সৌদি আরবে ফের আলোচনার কেন্দ্রে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নিজের ক্লাব আল-নাসরের হয়ে পরবর্তী ম্যাচের আগে কার্যত 'ধর্মঘটে' গেছেন বিশ্বফুটবলের এই মহাতারকা। সৌদি প্রো লিগের স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী আল-রিয়াদের বিপক্ষে সোমবারের ম্যাচে অধিনায়ক রোনালদোকে নাও পাওয়া যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

৪০ বছর বয়সী এই তারকা ফুটবলার ইতিহাসের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড়, দিনপ্রতি প্রায় ৪ লাখ ৮৮ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৫ লাখ পাউন্ড) মূল্যের চুক্তিতে খেলছেন আল-নাসরে। কিন্তু এই বিপুল অঙ্কের চুক্তি সত্ত্বেও সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ)-এর ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তুষ্ট তিনি।

পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম 'আ বোলা'–র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লাবের একটি সূত্র জানিয়েছে, রোনালদো ক্ষুব্ধ, কারণ সৌদি পিআইএফ যেভাবে আল-নাসরের আর্থিক ব্যবস্থাপনা করছে, তা প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলোর তুলনায় স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক। বিশেষ করে ট্রান্সফার মার্কেটে অন্য ক্লাবগুলোর সঙ্গে আল-নাসরের আচরণের পার্থক্যই তার ক্ষোভের মূল কারণ।

বর্তমানে সৌদি পিআইএফ সৌদি প্রো লিগের চারটি ক্লাবে ৭৫ শতাংশ মালিকানা নিয়ন্ত্রণ করে আল-আহলি, আল-ইত্তিহাদ, আল-হিলাল ও আল-নাসর। এই পিআইএফ-ই মূলত সৌদি লিগে বিশ্বফুটবলের বড় বড় তারকাদের নিয়ে আসার প্রধান চালিকাশক্তি।

রোনালদো ২০২৩ সালে আল-নাসরে যোগ দেওয়ার পরই করিম বেনজেমা, কালিদু কুলিবালি ও রিয়াদ মাহরেজের মতো তারকারা সৌদি আরবে পাড়ি জমান আল-ইত্তিহাদ, আল-হিলাল ও আল-আহলিতে।

কিন্তু রোনালদোর অভিযোগ, চারটি ক্লাবের মধ্যে আল-নাসরকে সমানভাবে ট্রান্সফার সুবিধা দেওয়া হয়নি। তিনি মনে করেন, আল-নাসরের কোচ হোর্হে জেসুস পর্যাপ্ত শক্তিবৃদ্ধি পাননি, যেখানে আল-হিলাল ট্রান্সফার মার্কেটে ধারাবাহিকভাবে বড় বড় নাম ভেড়াচ্ছে।

জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোতে আল-নাসরের একমাত্র সাইনিং ছিল ২১ বছর বয়সী ইরাকি মিডফিল্ডার হায়দার আবদুলকারিম। অন্যদিকে আল-হিলাল দলে নিয়েছে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাবলো মারিকে (১.৭ মিলিয়ন পাউন্ডে), পাশাপাশি ২৬ মিলিয়ন পাউন্ডে রেনেস ফরোয়ার্ড কাদের মেইতেকে। এমনকি আরও একটি ২৬ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তিতে নেইম ক্লাবের তারকা সাইমন বুয়াব্রেকে দলে টানার প্রক্রিয়াও নাকি চূড়ান্ত পর্যায়ে।

এই বৈষম্য নিয়ে গত মাসেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন কোচ হোর্হে জেসুস। তিনি বলেছিলেন, "আল-নাসরের আল-হিলালের মতো রাজনৈতিক শক্তি নেই।" এই মন্তব্য এতটাই বিতর্ক তৈরি করে যে আল-হিলাল সৌদি প্রো লিগ কর্তৃপক্ষের কাছে জেসুসকে ৬ মাস থেকে ১ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার আবেদন পর্যন্ত করে।

এদিকে রোনালদো এখনো আল-নাসরের হয়ে কোনো ঘরোয়া শিরোপা জিততে পারেননি, যা তাঁর হতাশা আরও বাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ডিসেম্বরে দুবাইয়ে এক পুরস্কার অনুষ্ঠানে রোনালদো ইউরোপে ফেরার সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেন, "আমার আবেগ এখনো তুঙ্গে। আমি খেলতে চাই। কোথায় খেলি সেটা বড় কথা না, মিডল ইস্ট হোক বা ইউরোপ। আমি ফুটবল খেলাটা উপভোগ করি। ইনজুরি না হলে আমি অবশ্যই ১০০০ গোলের মাইলফলকে পৌঁছাব।"

বর্তমানে রোনালদোর ক্যারিয়ার গোল সংখ্যা ৯৬১। গত শুক্রবার আল-খালুদের বিপক্ষে ৩-০ জয়ে সেই ৯৬১তম গোলটি করেন তিনি।