ভারতকে হারিয়ে শিষ্যদের প্রশংসায় বাটলার, ‘লড়াকু মনোভাবই জয় এনে দিয়েছে’
নেপালের পোখরা স্টেডিয়ামে সোমবার সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। খেলার শুরুর দিকের চাপ সামলে যেভাবে খেলোয়াড়রা লড়াকু মনোভাব ও ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি দেখিয়েছেন, সেই নিবেদনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রধান কোচ পিটার বাটলার।
টানা দুই জয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার পথ অনেকটাই সুগম হয়েছে। পূর্ণ ৬ পয়েন্ট অর্জন করে তারা এখন পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে। আগামী বুধবার নেপালের বিপক্ষে প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট পেলেই তাদের ফাইনালের টিকিট পাওয়া নিশ্চিত হবে। দিনের অন্য ম্যাচে ভুটানকে ২-১ গোলে হারানো স্বাগতিক নেপাল ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট পাওয়া ভারত গোল পার্থক্যে রয়েছে তৃতীয় স্থানে।
ম্যাচের শুরুতে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা কিছুটা ব্যাকফুটে ছিল। ভারত বল দখলে আধিপত্য দেখানোর পাশাপাশি গোল করার কিছু সুযোগও তৈরি করেছিল। তবে বাটলারের শিষ্যরা ধীরে ধীরে গুছিয়ে ওঠে এবং প্রাথমিক ধাক্কা সামলে নেয়। এরপর অর্পিতা বিশ্বাস ও আলপি আক্তার যথাক্রমে প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধে একটি করে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাটলার বলেন, 'আমার মনে হয়, তারা (ভারত) আমাদের চেয়ে দীর্ঘদেহী ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী দল। আমরা তুলনামূলক ছোটখাটো ও হালকা গড়নের। তবে আমার মনে হয়, লড়াকু মনোভাব দেখিয়ে যেভাবে আমরা ম্যাচটি নিয়ন্ত্রণ করেছি, সেটিই আমাদের জয় এনে দিয়েছে। এই জয় আমাদের পুরোপুরি প্রাপ্য ছিল। আমার মতে, তুলনামূলক বিচারে আমরাই ভালো দল ছিলাম।'
প্রতিকূলতার মুখে ধৈর্য ধরার জন্য ৫৯ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ কোচ তার শিষ্যদের প্রশংসায় আরও বলেন, 'মেয়েরা দারুণ লড়াকু মনোভাব ও ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি দেখিয়েছে। আমাদের শুরুটা খুব একটা ভালো ছিল না। কিছু ছোটখাটো চোট ও আঘাত ছিল, যা অবশ্য প্রত্যাশিতই। আমি মনে করি, আমরা শুরুর ঝড় বা চাপ— যাই বলুন না কেন, তা সামলে নিয়েছি। এরপর আমরা ম্যাচটি খুব, খুব ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছি। ভারতেরও কিছু ভালো সুযোগ ছিল। কারণ তাদের বেশ কিছু দুর্দান্ত খেলোয়াড় আছে।'
ম্যাচের প্রথম অর্ধে মামনি চাকমা ও ক্রানুচিং মারমাকে তুলে নেওয়া এবং দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিনটি পরিবর্তনের ব্যাখ্যাও দেন বাংলাদেশের কোচ, 'আমি স্ট্রাইকারদের উঠিয়ে নিয়েছি বলে আমার মনে হয় না। আমাদের চোটজনিত সমস্যা ছিল। সুরভী (আকন্দ প্রীতি) খুব দ্রুতই চোট পায়, তৃষ্ণা (রানী) খানিকটা আঘাত পেয়েছিল। আমি কিন্তু তাদেরকে ৭৫ মিনিটের আগে মাঠ থেকে তুলিনি। আমি ক্রানুচিংকে উঠিয়ে নিয়েছিলাম— যার ম্যাচের আগে থেকেই ঘাড়ের সমস্যা ছিল;। সে ধুঁকছিল। তাই আমাদের তাকে তুলে নিতে হয়েছে।'
মামনিকে বদলি করার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করে যোগ করেন, 'আমার কেবল মনে হয়েছে, মামনি প্রতিপক্ষের রাইট ব্যাককে ঠিকমতো ট্র্যাক করছিল না এবং রক্ষণেও সাহায্য করছিল না। কেউ যদি আমার হয়ে আমার দলে খেলতে চায়, তাহলে তাকে আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণভাগে ভূমিকা রাখার পরিশ্রমটুকুও করতে হবে।'