হৃদয়-খুশদিলকে ম্লান করে রাজশাহীর নায়ক ওয়াসিম-শান্ত

স্পোর্টস ডেস্ক

ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকা তাওহিদ হৃদয় অল্পের জন্য সেঞ্চুরিবঞ্চিত হলেন। তার ও খুশদিল শাহের ব্যাটে চড়ে রংপুর রাইডার্স চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেলেও তা যথেষ্ট হলো না। রান তাড়ায় মুহাম্মদ ওয়াসিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ফিফটি ছুঁয়ে গড়লেন প্রায় দেড়শ ছোঁয়া জুটি। ফলে ৫ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের অনায়াস জয় পেল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

রোববার বিপিএলের ম্যাচে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৭৮ রান করে রংপুর। এক পর্যায়ে, ১৩ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ৮০ রান। এরপর ডানহাতি ব্যাটার হৃদয় ও পাকিস্তানি অলরাউন্ডার খুশদিলের কল্যাণে দলটি শেষ ৭ ওভারে তোলে আরও ৯৮ রান। ঝড় তুলে তারা চতুর্থ উইকেটে যোগ করেন ৫১ বলে ১০৫ রান।

আগের ৬ ম্যাচে মাত্র ১০৬ রান করা হৃদয় ওপেনিংয়ে সুযোগ পেয়ে কাজে লাগান দারুণভাবে। ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে দেখান দারুণ নৈপুণ্য। আশা জাগালেও ইনিংসের শেষ ডেলিভারিটি ডট দেওয়ায় সেঞ্চুরির নাগাল পাননি যদিও। বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে তিনি অপরাজিত থাকেন ৯৭ রানে। ৩৯ বলে ফিফটি স্পর্শের পর ৫৬ বল মোকাবিলায় মারেন আটটি চার ও ছয়টি ছক্কা। চলমান আসরে এটি তার দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি। খুশদিল ২৯ বলে চারটি চার ও তিনটি ছক্কায় করেন ৪৪ রান। তবে লিটন দাস ফের হতাশ করেন। তিনে নেমে আউট হন ১৪ বলে ১১ রানে।

hridoy bpl
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ঝড়টা যায় পেসার রিপন মন্ডলের ওপর দিয়ে। তিনি ১৯তম ওভারে চারটি ছক্কায় ২৮ রান হজম করাসহ দেন ৫৬ রান। তার পাশাপাশি একটি করে উইকেট নেন তানজিম হাসান সাকিব, জেমস নিশাম ও সন্দীপ লামিচানে।

জবাব দিতে নেমে ছন্দের অভাবে থাকা তানজিদ হাসান তামিমকে তৃতীয় ওভারেই হারায় রাজশাহী। তিনি করেন ৭ বলে ৩ রান। সেই ধাক্কা তারা সামলে নেয় দ্রুত। আমিরাতি ওপেনার ওয়াসিম ও তিনে নামা শান্ত চড়াও হন প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর। ফলে পাওয়ার প্লেতে স্কোরবোর্ডে জমা হয়ে যায় ৬২ রান। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি দলটিকে। দুজনে মিলে গড়েন ৮২ বলে ১৪২ রানের জুটি। বিপিএলের ইতিহাসে রাজশাহীর পক্ষে যে কোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড এটি।

মাত্র ২৮ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করা বাঁহাতি ব্যাটার শান্ত বিদায় নেন ৭৬ রানে। বিধ্বংসী ইনিংস খেলার পথে ৪২ বলে তিনি হাঁকান ছয়টি চার ও চারটি ছক্কা। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ওঠে তার হাতেই। এবারের আসরের উদ্বোধনী সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে সেঞ্চুরি এসেছিল শান্তর ব্যাট থেকে। বর্তমানে তার অবস্থান রান সংগ্রাহকদের তালিকায় সবার ওপরে। ৭ ম্যাচে ৪৭.৮৩ গড় ও ১৪৮.৭০ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ২৮৭ রান।

তারপর নিশাম টিকতে না পারলেও রায়ান বার্লকে নিয়ে ওয়াসিম ম্যাচ শেষ করে তবেই মাঠ ছাড়েন। তিনি ৫৯ বলে করেন অপরাজিত ৮৭ রান। তার ব্যাট থেকে আসে সাতটি চার ও চারটি ছক্কা। ফলে ১৯.১ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছায় রাজশাহী। রংপুরের পক্ষে পাকিস্তানি পেসার আকিফ জাভেদ ২ উইকেট নিলেও খরচ করেন ৪৩ রান। অন্য শিকারটি ধরেন মোস্তাফিজুর রহমান।

গত ১ জানুয়ারি দুই দলের আগের দেখাতেও জিতেছিল রাজশাহী— মূল লড়াই টাই হওয়ার পর সুপার ওভারের রোমাঞ্চে। সাত ম্যাচে পঞ্চম জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে বিপিএলের পয়েন্ট তালিকায় দুইয়ে উঠে এসেছে তারা। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট পাওয়া চট্টগ্রাম রয়্যালস নেট রান রেটের বিচারে আছে শীর্ষে। সাত ম্যাচে তৃতীয় হারের তেতো স্বাদ পাওয়া রংপুর ৮ পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে তিনে।