তানজিদের সেঞ্চুরির পর বিনুরা-মুরাদের বোলিং নৈপুণ্যে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী

ক্রীড়া প্রতিবেদক

রান তাড়ায় একটুও লড়াই জমাতে পারল না চট্টগ্রাম রয়্যালস। বিসিবির পরিচালনায় থাকা দলটি নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে পড়ল মুখ থুবড়ে। ব্যাটিংয়ে তানজিদ হাসান তামিমের রেকর্ডময় সেঞ্চুরির পর বল হাতে বিনুরা ফার্নান্দো ও হাসান মুরাদ জ্বলে ওঠায় অনায়াসে জিতল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। তারা মাতোয়ারা হলো বিপিএলের শিরোপার উল্লাসে।

শুক্রবার প্রতিযোগিতার দ্বাদশ আসরের ফাইনালে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে চট্টগ্রামকে উড়িয়ে দিয়েছে রাজশাহী। টস হেরে আগে ব্যাট করে পুরো ওভার খেলে ৪ উইকেটে ১৭৪ রান তোলে রাজশাহী। জবাবে ১৩ বল বাকি থাকতে স্রেফ ১১১ রানে গুটিয়ে যায় চট্টগ্রাম।

ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিপিএলে রাজশাহীর কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির এটি দ্বিতীয় শিরোপা। এর আগে ২০১৯-২০ মৌসুমে খুলনা টাইগার্সকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রাজশাহী রয়্যালস। অন্যদিকে, টানা দ্বিতীয় ও সব মিলিয়ে তৃতীয়বারের মতো রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হলো চট্টগ্রামের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। এর আগে গত মৌসুমে ও ২০১৩ সালের আসরে ফাইনালে উঠে হেরেছিল চিটাগং কিংস।

চ্যালেঞ্জিং পুঁজি রক্ষায় বোলিংয়ে নেমে পাওয়ার প্লেতেই চালকের আসনে বসে পড়ে রাজশাহী। শ্রীলঙ্কান পেসার বিনুরা ও বাঁহাতি স্পিনার মুরাদের কল্যাণে প্রতিপক্ষের ৩৯ রানে তারা তুলে নেয় ৩ উইকেট। এই ধাক্কা সামলে আর ফিরতে পারেনি চট্টগ্রাম। মাঝের ওভারগুলোতে মুরাদের পাশাপাশি উইকেট শিকারে যোগ দেন কিউই পেস অলরাউন্ডার জেমস নিশাম। শেষদিকে আবার রুদ্রমূর্তি নিয়ে ফেরেন বিনুরা। আর একদম শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন পেসার আব্দুল গাফফার সাকলাইন। তার বলে তানজিদের হাতে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধর ক্যাচ জমা পড়তেই বাঁধভাঙা আনন্দের ঢেউ লাগে রাজশাহীর ডেরায়। তাদের ডাগআউটে প্রস্তুত থাকা সবাই ঢুকে পড়েন মাঠে।

৩ ওভারে মাত্র ৯ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন বিনুরা। ৩ উইকেট নিতে ৪ ওভারে মুরাদের খরচা ১৫ রান। মোহাম্মদ রুবেলের জায়গায় ফাইনালের একাদশে সুযোগ পেয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার প্রতিদান দেন তিনি। নিশাম ২ উইকেট দখল করেন ২৪ রানের বিনিময়ে। ২৪ রানে সাকলাইনের প্রাপ্তি ১ উইকেট।

চট্টগ্রামের মাত্র চার ব্যাটার যান দুই অঙ্কে। ১৪তম ওভার পর্যন্ত টিকে থাকা ওপেনার মির্জা বেগ করেন সর্বোচ্চ ৩৯ রান। তবে প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণের বিপরীতে খোলস ভাঙতে না পারায় তিনি লাগিয়ে ফেলেন ৩৬ বল। এছাড়া, সাতে নামা আসিফ আলী ১৬ বলে করেন ২১ রান। চতুর্থ উইকেটে সর্বোচ্চ ২৫ রানের জুটি হয় বেগ ও জাহিদুজ্জামানের মধ্যে। সব মিলিয়ে ফুটে ওঠে চট্টগ্রামের ব্যাটিংয়ের প্রবল দুর্দশা।

এর আগে ক্যারিবিয়ান ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবালের পর তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে বিপিএলের ফাইনালে সেঞ্চুরি করেন তানজিদ। আরেকটি অর্জনে বাঁহাতি ওপেনার ছাড়িয়ে যান সবাইকে। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে বিপিএলে সব মিলিয়ে তিনটি শতক হাঁকানোর রেকর্ডও গড়েন তিনি।

তানজিদ খেলেন ৬২ বলে ঠিক ১০০ রানের আগ্রাসী ইনিংস। তার ব্যাট থেকে আসে ছয়টি চার ও সাতটি ছক্কা। ৩১ বলে ফিফটি পূর্ণ করে ৬১ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শের পরপরই অবশ্য সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে। তিনি যদিও দুবার বেঁচে যান ক্যাচ তুলে, ব্যক্তিগত ৫৪ ও ৮৮ রানে। প্রথমবার মুকিদুল ও পরেরবার আসিফ বল মুঠোয় জমাতে পারেননি। দুবারই দুর্ভাগা বোলার ছিলেন আমির জামাল। শেষমেশ মুকিদুলের বলে জামালের ক্যাচে পরিণত হয়ে থামেন তানজিদ।

এর আগে ২০১৭-১৮ মৌসুমের বিপিএলের ফাইনালে রংপুর রাইডার্সের হয়ে গেইল ও ২০১৮-১৯ আসরের ফাইনালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে তামিম সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। আর এই নিয়ে টানা তিন আসরে সেঞ্চুরির স্বাদ নিলেন ২৫ বছর বয়সী তানজিদ। ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে ও গত বছর ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে শতকের দেখা পেয়েছিলেন তিনি।

শক্ত ভিত গড়ে দেওয়া উদ্বোধনী জুটিতে সাহিবজাদা ফারহানের সঙ্গে ৬২ বলে ৮৩ ও দ্বিতীয় উইকেটে কেইন উইলিয়ামসনের সঙ্গে ৩২ বলে ৪৭ রান যোগ করেন তানজিদ। ফারহান করেন ৩০ বলে ৩০ রান। উইলিয়ামসনের ব্যাট থেকে আসে ১৫ বলে ২৪ রান। চট্টগ্রামের হয়ে মুকিদুল ২০ রানে ও শরিফুল ইসলাম ৩৩ রানে ২ উইকেট।

দল শিরোপার নাগাল না পেলেও বিপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়েন বাঁহাতি পেসার শরিফুল। এবার তার উইকেট ২৬টি। গত আসরে দুর্বার রাজশাহীর পক্ষে তাসকিন আহমেদ নিয়েছিলেন ২৫টি উইকেট।