ব্রাজিলকে নিয়ে সন্দেহই শক্তি হয়ে উঠতে পারে, বিশ্বাস অ্যালিসনের
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ব্রাজিলকে ঘিরে প্রত্যাশার চেয়ে প্রশ্নই যেন বেশি। সাম্প্রতিক বছরগুলোর হতাশাজনক পারফরম্যান্স, বাছাইপর্বের অস্থিরতা এবং নতুন কোচের অধীনে পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া, সব মিলিয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নিয়ে সংশয় রয়েছে অনেকের মনে। তবে গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের মতে, এই সন্দেহই উল্টো ব্রাজিলের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে।
উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান শুরুর আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অ্যালিসন বলেন, 'দলকে ঘিরে কিছু সন্দেহ থাকা ভালো ব্যাপার। অতীতেও এমন হয়েছে। অনেক সময় ব্রাজিলকে শিরোপার প্রধান দাবিদার মনে করা হয়নি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারাই বিশ্বকাপ জিতেছে।'
বিশ্বকাপ জয়ের জন্য ব্রাজিলের অপেক্ষা এখন ২৪ বছরের। সর্বশেষ ২০০২ সালে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ট্রফি জিতেছিল সেলেসাওরা। সেই আসরেও তারা টুর্নামেন্টের প্রধান ফেবারিট ছিল না। আর এবারও বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নদের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং ২০২২ সালের রানার্সআপ ফ্রান্সের নাম। পাশাপাশি ইংল্যান্ড ও পর্তুগালকেও অনেকেই শিরোপার দাবিদার হিসেবে দেখছেন।
তবে অ্যালিসনের মতে, অতীতের তুলনায় বর্তমান ব্রাজিল দলের চরিত্র ভিন্ন। তিনি বলেন, 'এই দলের বৈশিষ্ট্য আগের দলগুলোর চেয়ে আলাদা। গত কিছু সময় খেলোয়াড়দের জন্য নানা কারণে কঠিন ছিল। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এখন আমরা কেমন অনুভব করছি। আমরা আশা করছি, সেটি মরক্কোর বিপক্ষে ভালো ফল এনে দেবে।'
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রোববার। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘সি’তে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মরক্কো। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে যথাক্রমে ষষ্ঠ ও সপ্তম স্থানে থাকা দুই দলের এই ম্যাচটিকে গ্রুপ পর্বের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে ব্রাজিলের পথচলা ছিল বেশ অস্থির। ১০ দলের প্রতিযোগিতায় তারা পঞ্চম স্থানে থেকে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়। এই সময়ে দুইজন কোচকে বরখাস্তও করা হয়। এরপর প্রায় এক বছর আগে দায়িত্ব নেন কিংবদন্তি ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইতিবাচক লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। বিশ্বকাপের আগে শেষ তিনটি প্রীতি ম্যাচেই জয় পেয়েছে ব্রাজিল। এর মধ্যে পানামাকে ৬-২ এবং মিশরকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তারা।
মরক্কোর পর ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড। তাই নকআউট পর্বে ওঠার লক্ষ্যে প্রথম ম্যাচ থেকেই শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চাইবে সেলেসাওরা।
বিশ্বকাপের মঞ্চে সাম্প্রতিক ইতিহাস অবশ্য ব্রাজিলের পক্ষে নয়। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ জিতেছিল তারা। কিন্তু এরপরের আসরগুলোতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। শেষ পাঁচ বিশ্বকাপের মধ্যে চারবারই কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের ঐতিহাসিক পরাজয় এখনও ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের অন্যতম বেদনাদায়ক স্মৃতি।
৩৩ বছর বয়সী অ্যালিসনের জন্য এটি তৃতীয় বিশ্বকাপ। ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে এবং ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন দলের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক। রাশিয়ায় বেলজিয়ামের কাছে এবং কাতারে ক্রোয়েশিয়ার কাছে বিদায় নিতে হয়েছিল ব্রাজিলকে।
তবে অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে পড়ে থাকতে চান না অ্যালিসন, 'ফুটবলে অতীতের হতাশা নিয়ে পড়ে থাকার সুযোগ নেই। যা হয়েছে, তা হয়ে গেছে।'
এ সময় তিনি কোচ আনচেলত্তিরও প্রশংসা করেন। অ্যালিসনের ভাষায়, 'আনচেলত্তি আসার পর দলের পরিবেশ পুরো বদলে গেছে। তার উপস্থিতি খুবই শক্তিশালী। তিনি বিতর্ক নয়, ফুটবল নিয়েই কাজ করেন।'