ঝড়-বৃষ্টি পেরিয়ে শেষ ষোলোয় মেক্সিকো
বজ্রঝড়ের কারণে ম্যাচ শুরু হতে দেরি হলেও মাঠে নেমে কোনো ঝড় তুলতে ভুল করেনি মেক্সিকো। দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপের অন্যতম সহ আয়োজকরা। টানা চার জয়ে টানা চারটি ক্লিনশিটও রেখেছে দলটি।
মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে ইকুয়েডরকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে মেক্সিকো। দলের হয়ে গোল করেছেন জুলিয়ান কুইনোনেস ও রাউল হিমেনেস।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে ম্যাচটি এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়। তবে খেলা শুরু হতেই গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে উজ্জীবিত মেক্সিকো শুরু থেকেই চেপে ধরে প্রতিপক্ষকে।
প্রথম ১০ মিনিটেই চারটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করে হাভিয়ের আগুয়েরের দল। যদিও ইকুয়েডরের জন ইয়েবোয়া একবার পোস্টে বল মেরেছিলেন, পুরো প্রথমার্ধে স্বাগতিকদের গতি ও আক্রমণের সামনে কার্যত অসহায় ছিল তারা।
২৬তম মিনিটে জালের দেখা পায় মেক্সিকো। বাঁ দিক দিয়ে দুর্দান্ত দৌড়ে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া উইঙ্গার জুলিয়ান কুইনোনেস। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তার তৃতীয় গোল।
গোল করার পরই গোল করানোর ভূমিকায়ও দেখা যায় কুইনোনেসকে। প্রথমার্ধের ৩১তম মিনিটে ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার জোয়েল অরদোনিয়েসের ভুলের সুযোগ নিয়ে তার বাড়ানো বল থেকে দুর্দান্ত ফিনিশে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাউল হিমেনেস।
বিরতির পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ইকুয়েডর। গনসালো প্লাতার হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট না হলে ব্যবধান কমতে পারত। তবে সেটিই ছিল তাদের সেরা সুযোগ।
শেষদিকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় ইকুয়েডরের জন্য। যোগ করা সময়ে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ ঢেকে রাখায় লাল কার্ড দেখেন পিয়েরো হিনকাপিয়ে। চলতি বিশ্বকাপে একই কারণে লাল কার্ড দেখা দ্বিতীয় খেলোয়াড় তিনি। এর আগে প্যারাগুয়ের মিগেল আলমিরন একই অপরাধে মাঠ ছেড়েছিলেন।
এই জয়ে শেষ ষোলোয় ওঠা মেক্সিকো আগামী রোববার ইংল্যান্ড অথবা কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে মাঠে নামবে। স্বাগতিক হওয়ায় সেই ম্যাচটিও তারা খেলবে মেক্সিকো সিটিতেই।