বিশ্বকাপ না খেলার হতাশা কাটানো মুশকিল: সালাউদ্দিন

এই মুহূর্তে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ওয়ার্মআপ ম্যাচে ব্যস্ত থাকার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন; লিটন দাসরা এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিন দলের চার ম্যাচের একটি ঘরোয়া টুর্নামেন্টে অংশ নিতে। বৈশ্বিক আসরে জায়গা না পাওয়ার হতাশা বাইরে প্রকাশ না করলেও, ক্রিকেটারদের মনের ভেতরে যে ক্ষত আছে, তা অকপটে স্বীকার করে নিলেন জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।

বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারায় দেশের শীর্ষ ক্রিকেটারদের সামনে আপাতত আন্তর্জাতিক কোনো সূচি নেই। এমনকি নিয়মিত ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) আয়োজন নিয়েও মেলেনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এমন স্থবিরতার মাঝে ক্রিকেটারদের খেলার মধ্যে রাখতে তিন দল নিয়ে চার ম্যাচের একটি সংক্ষিপ্ত টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে বিসিবি। ‘অদম্য টি-টোয়েন্টি কাপ’ নামের এই আসরটি মূলত বিশ্বকাপ না খেলার আক্ষেপ কিছুটা হলেও কমানোর চেষ্টা।

আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের জন্য এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আসরে ‘ধূমকেতু একাদশ’ নামের দলের কোচের দায়িত্ব পালন করছেন সালাউদ্দিন।

বুধবার অনুশীলনের ফাঁকে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ঘুরেফিরে আসে বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ। অভিজ্ঞ এই কোচ বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, এটা (বিশ্বকাপ না খেলা) আসলে মাথা থেকে সরানো অনেক কঠিন। এটার জন্য সবার মনেই হতাশা আছে। সবাইকে মানসিকভাবে শতভাগ শক্ত বলা যাবে না। এই হতাশা কাটানোও আসলে মুশকিল।’

সালাউদ্দিন আরও যোগ করেন, ‘দিন শেষে আপনি যদি কেবল এটা নিয়েই পড়ে থাকেন, তবে নিজের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই করবেন না। আমার মনে হয়, বর্তমান অবস্থায় থেকে নিজের সেরাটা কীভাবে দেওয়া যায়, সেটাই হওয়া উচিত লক্ষ্য। পেশাদার খেলোয়াড়রা হয়তো সেভাবেই বিষয়টিকে দেখবে।’

বৈশ্বিক আসর শুরু হলে যন্ত্রণার তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি। তবে মানুষ হিসেবে সেই আবেগের ঝাপটা সামলে নিয়ে ক্রিকেটাররা সামনে এগিয়ে যাবেন বলে বিশ্বাস সালাউদ্দিনের, ‘আবেগ সবাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আমাদের ভেতরে দুঃখ-কষ্ট থাকবেই। কিন্তু সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বর্তমান পরিস্থিতিতে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। আশা করি ছেলেরা এটি কাটিয়ে উঠবে এবং এই টুর্নামেন্টে নিজেদের লক্ষ্য স্থির রাখবে।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিস করায় বাংলাদেশ দলের সামনে এখন ওয়ানডের চ্যালেঞ্জই মুখ্য। চলতি বছর অন্তত ২১টি ওয়ানডে ও ১২টি টেস্ট ম্যাচ রয়েছে টাইগারদের। আগামী বছর সরাসরি ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জনে রেটিং পয়েন্ট বাড়ানোর তাগিদও আছে। তবে কেবল বিশ্বকাপ না খেলার ক্ষত ঢাকতে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে চার ম্যাচের এই টি-টোয়েন্টি আসর কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্নও দেশের ক্রিকেট মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।