টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

২৯ রানের চাহিদা ৯ বলে মিলিয়ে পাকিস্তানকে জেতালেন ফাহিম

স্পোর্টস ডেস্ক

লক্ষ্য তাড়ায় শক্ত ভিত তৈরির পর খেই হারিয়ে ফেলল পাকিস্তান। মাত্র ১৬ রানের মধ্যে তাদের ৫ উইকেট তুলে লড়াই জমিয়ে তুলল নেদারল্যান্ডস। তবে 'আনপ্রেডিক্টেবল' পাকিস্তান এরপর দেখাল সেই তকমা কেন ঐতিহাসিকভাবে তাদের গায়ে সেঁটে আছে। শেষ দুই ওভারে ২৯ রানের চাহিদা ফাহিম আশরাফের তাণ্ডবে ৯ বলেই মিলিয়ে ফেলল তারা।

শনিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ৩ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে পাকিস্তান। টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯.৫ ওভারে ১৪৭ রানে গুটিয়ে যায় ডাচরা। জবাবে ৭ উইকেট খুইয়ে মাত্র ৩ বল বাকি থাকতে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় সালমান আগার দল।

আটে নামা ফাহিম খেলেন ২৯ রানের ম্যাচজয়ী বিস্ফোরক ইনিংস। স্রেফ ১১ বল মোকাবিলায় তিনি হাঁকান দুটি চার ও তিনটি ছক্কা। নেদারল্যান্ডসের পেসার লোগান ফন বিকের করা ১৯তম ওভারে তিনটি ছক্কা ও একটি চারসহ মোট ২৪ রান আনেন তিনি। তারপর শেষ ওভারে বাস ডি লিডিকে চার মেরে ইতি টানেন ম্যাচের।

বাগে পেয়েও শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারাতে না পারায় নিজেদেরকে দুর্ভাগা ভাবতেই পারে ডাচরা। চরম উত্তেজনাপূর্ণ সময়ের ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ফাহিমকে সাজঘরে ফেরানোর সুযোগ এসেছিল স্কট এডওয়ার্ডসের দলের। কিন্তু লং-অফে ক্যাচ হাতে জমাতে ব্যর্থ হন ম্যাক্স ও'ডাউড। জীবন পাওয়া ফাহিম এরপর আর কোনো ভুল করেননি।

১১ ওভার শেষে ২ উইকেট হারিয়ে ৯৮ রান তুলে পাকিস্তান যখন জয়ের সুবাস পাচ্ছে, তখনই ম্যাচে নাটকীয় মোড় নেয়। জয়ের জন্য শেষ ৫৪ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৫০ রান। কিন্তু নেদারল্যান্ডসের বোলারদের তোপে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ম্যাচটি কঠিন করে তোলে পাকিস্তান।

সাইম আইয়ুবের ১৩ বলে ২৪ রানের ঝড়ো শুরু এবং সাহিবজাদা ফারহানের ৩১ বলে ৪৭ রানের আগ্রাসী ইনিংসে ভর করে পাকিস্তান ভালো ভিত পায়। তবে মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় তারা পথ হারিয়ে ফেলে। ধুঁকতে থাকা বাবর আজমের (১৮ বলে ১৫ রান) পর উসমান খান, মোহাম্মদ নওয়াজ ও শাদাব খান টিকতে না পারলে ডাচদের জয়ই মনে হচ্ছিল সময়ের ব্যাপার। তবে ফাহিমের দৃঢ়তায় খাদের কিনারা থেকে জয় নিয়ে ফেরে পাকিস্তান।

এর আগে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বাউন্ডারি মেরে ডাচদের শুরুটা ইতিবাচক হলেও বড় সংগ্রহ পায়নি তারা। আবরার আহমেদ ও অন্য স্পিনারদের ঘূর্ণিতে থমকে যায় তাদের ইনিংস। এক পর্যায়ে ১৬০-১৭০ রানের সম্ভাবনা জাগালেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় দলটি। এডওয়ার্ডস ২৯ বলে ৩৭ ও ডি লিডি ২৫ বলে ৩০ রান করেন।

২৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন পেসার সালমান মির্জা। তবে আঁটসাঁট বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন পাকিস্তানের স্পিনাররা। আবরার, সাইম ও নওয়াজ দুটি করে শিকার ধরেন।