ভারতের জয়ের রেকর্ড ভাঙার পর দক্ষিণ আফ্রিকা এখন ‘পরিণত’, বললেন মিলার
ডেভিড মিলার বিশ্বাস করেন, দক্ষিণ আফ্রিকা একটি পরিণত ও লড়াকু দলে পরিণত হয়েছে। তাদের দল এখন বড় মঞ্চে জয় তুলে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপাধারী ভারতের বিপক্ষে তার ম্যাচ জেতানো ইনিংসটি সেই আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ।
গতকাল রোববার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ঝড় তোলেন মিলার। যখন দলের ওপর প্রবল চাপ, ঠিক তখনই পাঁচ নম্বরে নেমে পাল্টা আঘাত হানেন তিনি। মাত্র ৩৫ বলে ৬৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতে নেন। তার ব্যাট থেকে আসে সাতটি চার ও তিনটি ছক্কা। মিলারের ব্যাটিংয়ে ভর করে দক্ষিণ আফ্রিকা ৭৬ রানের বিশাল ব্যবধানে ভারতকে হারিয়েছে। ফলে বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বের গ্রুপ ওয়ানে তারা শুভ সূচনা করেছে।
প্রোটিয়াদের এমন দুর্দান্ত জয় এই টুর্নামেন্টে ভারতের টানা ১২ ম্যাচের জয়ের রেকর্ডের অবসান ঘটিয়েছে। এটি শিরোপার লড়াইয়ে থাকা বাকি দলগুলোর কাছে একটি শক্তিশালী বার্তাও দিয়েছে।
মিলারের দৃষ্টিতে, তাদের পারফরম্যান্স ছিল কেবল রান করার চেয়েও বেশি কিছু। বরং এটি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য আত্মবিশ্বাস খুঁজে নেওয়ার রসদ। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, 'আজকের ম্যাচ প্রমাণ করেছে যে, তাদেরকে হারানো সম্ভব। ভারত একটি অবিশ্বাস্য দল, কিন্তু এই ধরনের টুর্নামেন্টে আসল কাজ হলো— মৌলিক বিষয়গুলোতে মনোযোগ দেওয়া, নিজেদের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করা এবং লক্ষ্যপূরণে অটল থাকা।'
দক্ষিণ আফ্রিকা টস জিতে ব্যাটিং বেছে নিয়ে স্কোরবোর্ডে ৭ উইকেটে ১৮৭ রানের বড় পুঁজি গড়ে। মিলারের আক্রমণাত্মক ইনিংসের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ব্রেভিস ও স্টাবস। চারে নেমে তিনটি করে চার ও ছক্কায় ২৯ বলে ৪৫ রান করেন ব্রেভিস। আর ছয়ে নামা স্টাবস শেষদিকে দলের পুঁজি দুইশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ৪৪ রানের অপরাজিত ইনিংসে ২৪ বল মোকাবিলায় তিনি মারেন তিনটি ছক্কা ও একটি চার।
এরপর লক্ষ্য তাড়ায় নেমে একটুও লড়াই জমাতে পারেনি ভারত। মার্কো ইয়ানসেন, কেশব মহারাজ ও করবিন বশের তোপে কোনোমতে একশ পেরিয়ে ১৮.৫ ওভারে গুটিয়ে যায় তারা। পাওয়ার প্লের মধ্যে তিলক বর্মা ও অভিষেক শর্মাকে আউট করার পর ম্যাচের শেষ দুই বলে পেস বোলিং অলরাউন্ডার ইয়ানসেন নেন শিবম দুবে ও জসপ্রিত বুমরাহর উইকেট। ৪ উইকেট নিতে তার খরচা হয় ২২ রান। এছাড়া, বাঁহাতি স্পিনার মহারাজ ৩ ও অলরাউন্ডার বশ ২ উইকেট পান।
প্রোটিয়া অধিনায়ক এইডেন মার্করাম দলের ধৈর্য ও উন্নতির প্রশংসা করেন, 'এক কথায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। আমরা এখানে আগে যেমন উইকেট পেয়েছি, এটি ছিল তার চেয়ে বেশ আলাদা। ছেলেরা সেটা দ্রুত বুঝতে পেরেছে এবং মানিয়ে নিয়েছে— এটি দেখতে পাওয়া ছিল দারুণ ব্যাপার। আমাদের বোলিং ইউনিট অবিশ্বাস্য পরিশ্রম করছে এবং তারা সত্যিই নিজেদের মেলে ধরেছে।'
এই দুই দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষবার মুখোমুখি হয়েছিল সবশেষ অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের আসরের ফাইনালে। সেদিন দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। সেই ক্ষত পেরিয়ে এবার যেন আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে সংকল্পবদ্ধ।
মিলারের মতে, দীর্ঘ সময় একসঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতাই তাদের বড় শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে, 'আমরা এখন একটি পরিণত দল। আমাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে খেলছি, যা চাপের মুখে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। আসলে মূল ব্যাপার হলো— নিজেদের সীমানার মধ্যে থাকা, নিজেদের দায়িত্বটুকু ঠিকঠাক পালন করা এবং সাফল্যের জন্য সবসময় ক্ষুধার্ত থাকা।'