‘আমি কেবল বাড়ি ফিরতে চাই,’ ভারতে আটকে থাকা স্যামির আকুতি
মাঠের লড়াই শেষ হয়েছে আগেই। কিন্তু মাঠের বাইরের এক অদৃশ্য লড়াই এখন আটকে দিয়েছে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের ক্রিকেটারদের। ভারত বিশ্বকাপের সুপার এইট থেকে বিদায় নেওয়ার পর যখন ড্যারেন স্যামি ও তার দলের ঘরের পথে উড়াল দেওয়ার কথা, তখনই বাধা হয়ে দাঁড়াল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাতের কারণে আকাশপথে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
ঠিক এই মুহূর্তেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামির একটি ছোট সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) স্যামি লিখেছেন, ‘আমি কেবল বাড়ি ফিরতে চাই’।
মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ গত সোমবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ভারত থেকে দলের ফেরার ফ্লাইট স্থগিত করতে হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের নিরাপত্তাই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। বর্তমানে তারা আইসিসি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, যাতে দ্রুত কোনো নিরাপদ বিকল্প পথ খুঁজে বের করা যায়।
মাঠের পারফরম্যান্সও এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ছিল না। ভারতের সঙ্গে সুপার এইটে নিজেদের শেষ ম্যাচে ১৯৫ রানের বিশাল স্কোর গড়েও রক্ষা হয়নি। রস্টন চেজ ও শাই হোপদের লড়াই ম্লান করে দিয়েছেন ভারতের সঞ্জু স্যামসন। তার অপরাজিত ৯৭ রানের ওপর ভর করে ৫ উইকেটে জয় পায় ভারত। এই হারের সঙ্গেই শেষ হয় দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ২০২৬ বিশ্বকাপ যাত্রা।
ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের প্রভাব এখন কেবল মানচিত্র বা সংবাদ শিরোনামে সীমাবদ্ধ নেই, তা ছুঁয়ে গেছে ক্রীড়াঙ্গনকেও। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়া—মিলিয়ে এক অস্থির সময় পার করছেন বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো ক্রিকেটাররা।
মাঠের হার ছাপিয়ে এখন ড্যারেন স্যামিদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ নিরাপদে প্রিয়জনদের কাছে ফিরে যাওয়া।