এআই: মানুষের তৈরি বুদ্ধিমত্তা, মানুষের বিকল্প নয়

আরিফ হোসেন
আরিফ হোসেন

এআই বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স শব্দটা এখন আর শুধু প্রযুক্তিবিদদের আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই। 

সকালে ঘুম ভাঙা থেকে শুরু করে অফিসের কাজ, লেখা, ছবি বানানো, হিসাব রাখা—সবখানেই এআই ঢুকে পড়েছে। অনেক সময় মনে হয়, এই মেশিনগুলো বুঝি নিজেরাই ভাবে আর নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেয়। 

কারও কারও মনে প্রশ্ন জাগে—এআই কি মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান হয়ে যাচ্ছে?

এই প্রশ্নের উত্তরটা যতটা জটিল মনে হয়, আসলে ততটা নয়।

এআই কোনো অলৌকিক সত্তা নয়। তার নিজের কোনো মস্তিষ্ক নেই, অনুভূতি নেই, ইচ্ছাশক্তি নেই। এআই মূলত মানুষের মস্তিষ্কেরই এক বিস্তৃত সংস্করণ—যা মানুষ নিজেই বানিয়েছে নিজের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা আর যুক্তি দিয়ে।

এআই কীভাবে কাজ করে

খুব সহজ করে বললে, মানুষ তাকে শেখায়—ডেটা দিয়ে, উদাহরণ দিয়ে, নির্দেশনা দিয়ে। কোটি কোটি লেখা, ছবি আর তথ্য বিশ্লেষণ করে এআই কিছু প্যাটার্ন ধরতে শেখে। 

এরপর আমরা যখন কোনো প্রশ্ন করি, সে আগের শেখা জিনিসগুলোর ভিত্তিতেই সম্ভাব্য সবচেয়ে ভালো উত্তরটি দেয়। কিন্তু সে জানে না—সে শুধু মিলিয়ে নেয়।

একটা শিশুকে যেমন আমরা ভাষা শেখাই, অঙ্ক শেখাই—ঠিক তেমনই এআই শেখে। পার্থক্য হলো, শিশুর আছে অনুভূতি, বিবেক আর নিজের মতো করে ভাবার ক্ষমতা। এআইয়ের তা নেই বলে সে কখনো নিজে সিদ্ধান্ত নেয় না। 

সে সিদ্ধান্ত দেয় মানুষের দেওয়া নির্দেশের সীমার ভেতর থেকেই।

তাহলে এআই এত বুদ্ধিমান মনে হয় কেন

কারণ এআই খুব দ্রুত কাজ করতে পারে। মানুষ যেখানে হাজারটা বই পড়তে বছরে সময় নেয়, এআই সেখানে সেকেন্ডে বিশ্লেষণ করে ফেলে। এই গতিটাই আমাদের চোখে বুদ্ধিমত্তা বলে মনে হয়। কিন্তু গতি আর বুদ্ধিমত্তা এক জিনিস নয়।

এআই ভুলও করে। কারণ মানুষ ভুল করে, আর মানুষের তৈরি ডেটার ভেতরেই সেই ভুল থাকে। তাই এআই যতই নিখুঁত মনে হোক, শেষ পর্যন্ত সে মানুষের প্রতিচ্ছবি মাত্র।

এআই আসলে আমাদের কী দিচ্ছে

এআই মানুষকে সমাধান দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু চিন্তা করার দায়িত্ব কেড়ে নিচ্ছে না—যদি আমরা নিজেরা সেটা ছেড়ে না দিই। এআই হতে পারে একজন সহকারী। এর বাইরে বড়জোর একজন দ্রুত হিসাব করা সহকর্মী। কিন্তু দিকনির্দেশনা, মূল্যবোধ আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত—সেগুলো এখনো মানুষের হাতেই থাকা দরকার।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এআই মানুষকে প্রতিস্থাপন করার জন্য নয়, মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য। কলম যেমন লেখকের বিকল্প নয়, ক্যালকুলেটর যেমন গণিতবিদের বিকল্প নয়—এআইও তেমনি।

ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে এআই কতটা বুদ্ধিমান হবে তার ওপর নয়, বরং মানুষ কতটা দায়িত্বশীলভাবে এআই ব্যবহার করবে তার ওপর।

শেষ পর্যন্ত সত্যটা খুব সাধারণ—এআই যত শক্তিশালীই হোক, তার পেছনে যে ব্রেনটা কাজ করছে, সেটা এখনো মানুষেরই।