নির্বাচনকে ঘিরে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা জোরদার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও তার আশপাশের এলাকাসহ পুরো জেলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর আহমেদ।
তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ক্যাম্পের ভেতরে ও আশপাশে চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়া মেরামত, অতিরিক্ত সেনাসদস্য মোতায়েন ও নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সেনাবাহিনী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে নিবিড় নজরদারি চালাচ্ছে বলে জানান তানভীর আহমেদ।
তিনি আরও বলেন, ‘কোনোভাবেই যাতে রোহিঙ্গারা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাতে না পারে, সে জন্য কঠোর সতর্কতা বজায় রাখা হবে।’
এ সময় নির্বাচনে কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনে সেনা মোতায়েন সম্পর্কে জানতে চাইলে লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর আহমেদ বলেন, ‘১০ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে পর্যাপ্ত সংখ্যক সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।’
সার্বিক নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে ঘিরে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান এই সেনা কর্মকর্তা।
পরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুতপা জামান লিখিত বক্তব্যে গত কয়েকদিনে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ অভিযানের তথ্য তুলে ধরেন। বলেন, ‘গত ৮ ফেব্রুয়ারি উখিয়ার বালুখালী এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে ৭৮৪ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। অবৈধভাবে তাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য ২০ জন বাংলাদেশি বাড়ির মালিককেও আটক করা হয়।
সুতপা জামান আরও বলেন, ‘৩ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে মোট ৪৬টি যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এসব অভিযানে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, ডাকাত দলের সদস্য, কিশোর গ্যাং সদস্য, চোরাকারবারি ও বিভিন্ন মামলার আসামিসহ মোট ৫৯ জনকে আটক করা হয়েছে।’