ট্রাম্পের ‘স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনীতে’ সেনা মোতায়েন করবে যে ৫ দেশ

স্টার অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সভাপতিত্বে ‘শান্তি পর্ষদ’ (বোর্ড অব পিস) এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ওই বিশ্বনেতা জানান, গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন তহবিলে ৭০০ কোটি ডলার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে ৯টি সদস্যরাষ্ট্র।

পাশাপাশি, গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে রাজি হয়েছে পাঁচটি দেশ

আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা। 

Board of Peace/Reuters

গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ অবসানে ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী।

ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো ও আলবেনিয়া ওই বাহিনীতে সেনা মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। 

গাজার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়টা করবে নতুন এই বাহিনী। বাহিনীর সংক্ষিপ্ত নাম আইএসএফ (ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স)। 

আইএসএফের ‘ভবিষ্যৎ’ কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মার্কিন সেনাবাহিনীর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্স। 

Jasper Jeffers and Tony Blair/Reuters

জেনারেল জেফার্স গতকাল বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ইন্দোনেশিয়া থেকে যে বাহিনী আইএসএফে যোগ দেবে, তাদের মধ্য থেকে একজন ‘ডেপুটি কমান্ডারের’ পদ গ্রহণ করতে রাজি হয়েছেন।

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত শান্তি পর্ষদের বৈঠকে জেফার্স বলেন, ‘এসব প্রাথমিক ধাপ গাজার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।’

অন্য অনেক দেশের নেতাদের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তো এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ’ সফল করতে তার দেশ ওই বাহিনীতে সর্বোচ্চ আট হাজার সেনা পাঠাবে। 

গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক হামলায় অন্তত ৭২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। 

কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-ইয়োমার্ত তোকায়েভ জানান, তার দেশ চিকিৎসা ইউনিট সহ গাজায় অন্যান্য সেনা পাঠাবে। তবে সেনার সংখ্যা উল্লেখ করেননি তিনি। 

মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বৌরিতা জানান, তার দেশ গাজায় পুলিশ কর্মকর্তা পাঠাতে প্রস্তুত।

3 leaders/Reuters

আলবেনিয়াও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। 
অপর দিকে, মিশর ও জর্ডান বলেছে, তারা পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে বাহিনীর কার্যক্রমে অংশ নেবে। 

গাজার রাফা শহর থেকে তারা কাজ শুরু করবে এবং একটি নতুন পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেবে। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ১২ হাজার পুলিশ সদস্য ও ২০ হাজার সেনা প্রস্তুত করা।

প্রথম যে কয়েকটি দেশ আইএসএফ-এ সেনা পাঠাতে রাজি হয়েছে, তার মধ্যে ইন্দোনেশিয়া অন্যতম।

সমালোচকদের উদ্দেশে জাকার্তার বক্তব্য, ইসরায়েলি গণহত্যামূলক হামলার মুখে গাজায় আন্তর্জাতিক আইন বজায় রাখা নিশ্চিত করতেই তারা এই উদ্যোগে অংশ নিচ্ছে। 

Protest outside peace committee meeting/Reuters

ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস ও জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুরের সঙ্গে বুধবার নিউইয়র্কে দেখা করেন। 

এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘মানবিক কারণে ইন্দোনেশিয়া শান্তি পর্ষদের স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনীতে সেনা পাঠাচ্ছে। তাদের নজর থাকবে বেসামরিক মানুষদের সুরক্ষা দেওয়া, মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া, গাজার পুনর্নির্মাণ ও ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া ও তাদের সক্ষমতা বাড়ানো।’

মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, সেনারা সরাসরি সংঘাতে অংশ নেবে না। 

‘সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে হয় এমন কোনো সামরিক অভিযানে ইন্দোনেশীয় সেনারা অংশ নেবে না’, যোগ করে মন্ত্রণালয় ।

এই বাহিনীতে জাকার্তার অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ইন্দোনেশিয়া শাখার প্রধান উসমান হামিদ। তিনি জানান, শান্তি পর্ষদ ও আইএসএফে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে দেশটি। 

Usman Sebut 100 Hari Pemerintahan Prabowo-Gibran Diwarnai Pelanggaran HAM

হামিদ হুশিয়ারি দেন, গাজায় সেনা পাঠানোর অর্থ হল ইন্দোনেশিয়া এমন একটি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হল, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন হতে পারে। 

গত সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্টের স্পিকারের উদ্দেশ্যে লেখা খোলা চিঠিতে হামিদ বলেন, ‘শান্তি পর্ষদে বিপদগ্রস্ত ফিলিস্তিনিদের কোনো প্রতিনিধি নেই। বরং সেখানে ইসরায়েলি সদস্যরা আছেন, যারা প্রায় আট দশক ধরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষী আচরণ ও গণহত্যামূলক নির্যাতন চালাচ্ছে এবং অবৈধভাবে তাদের ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে।’

ফিলিস্তিনিরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদ শান্তি প্রতিষ্ঠার বদলে গাজায় ইসরায়েলি আধিপত্যকে আরও সুসংহত করবে। 

দেশটি সেখানে একের পর এক ‘বাফার জোন’ তৈরি করছে এবং গাজাবাসীর কাছে খাবার ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। 

হামাসের সঙ্গে তথাকথিত যুদ্ধবিরতির বেশ কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো থামেনি ইসরায়েলি হামলা। যুদ্ধবিরতি চালুর পর থেকে প্রায় ৬০০ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন।