প্রথম ভোট, প্রথম উচ্ছ্বাস

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

তাজিয়া খান, ঢাকা-১৫ আসনের বাসিন্দা। জীবনে এই প্রথম ভোট দিতে এসেছেন। সঙ্গে আছেন তার মা খাদিজা বেগম (৫৩)। 

আজ বৃহস্পতিবার সকালে মিরপুর ২ নম্বরের মনিপুর স্কুল কেন্দ্রে একসঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন মা ও মেয়ে।

কেন্দ্র থেকে বের হয়ে দুজনই খুব উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

প্রথমবার ভোট দেয়ার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার কথা জানান দ্য ডেইলি স্টারকে।

বলেন, ‘এবার দেশের পরিবর্তন চাচ্ছি। আশা করি পরিবর্তন হবে।’

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটে অংশ নিয়েও গর্বিত বলে জানিয়েছেন তাজিয়া।

একই কেন্দ্রে প্রথমবার ভোট দিতে এসেছেন যমজ ভাইবোন সায়মা ও সাজিদ। 

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফারহানা ইসলাম সায়মা (২৩) ভোট দেওয়ার পর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি ছুটিতে বাড়ি এসেছি শুধু ভোট দেওয়ার জন্য।’

জানান, দেশে গণতন্ত্রকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত দেখতে চান তিনি। 

সায়মার যমজ ভাই সাজিদ (২৩)। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী।

ভোট দেওয়ার পর বলেন, ‘গত রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক উদ্বেগজনক পোস্ট দেখেছি। কিন্তু আজ সকালে কেন্দ্রে পৌঁছে পরিবেশ শান্ত দেখে ভালো লাগছে।’

তিনি জানান, সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটেও অংশ নিয়েছেন।

ঢাকা–১৭ আসনের রাজধানীর আইডিয়াল পাবলিক স্কুল এলাকার ৫টি ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকেই প্রথমবার ভোটারদের সংখ্যা বেশি।

মাটিকাটা বাজারের আইডিয়াল পাবলিক স্কুল কেন্দ্রে প্রথম ভোট দিতে এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ২৭ বছর বয়সী নাজনীন আয়েশা।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আগেই ভোটার হয়েছিলাম তবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাইনি।’

নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘ঈদের আনন্দের মতো লাগছে। কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে ভোট দিতে এসেছি।’

ভোট দেওয়ার জন্য সকাল থেকেই বন্ধুরা মিলে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বলেও জানান নাজনীন আয়েশা। 

আইডিয়াল পাবলিক স্কুল কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পোলিং এজেন্টরা জানান, এখন পর্যন্ত এ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা আবদুর রশীদ তালুকদার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘প্রথম ঘণ্টায় ২,৬৯১ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।’

সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার সংখ্যা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।