আপনাদের জন্য শহীদ হতে হলে হবো: হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলেছেন, 'আপনাদের জন্য যদি শহীদ হতে হয়, তবে সেই প্রথম শহীদ হবো আমি ও আমার দলের কর্মীরা। আমি অতীতেও আপনাদের পাশে ছিলাম, এখনো আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো।'
আজ শনিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখচা ইউনিয়নের বলদাপুকুর গ্রামে নির্বাচনী সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এ প্রার্থী আরও বলেন, 'আমি আপনাদের এটা বলতে পারি—ভয়ের কোনো কারণ নেই। নির্ভয়ে ভোট দিতে যান, নির্ভয়ে বেরিয়ে আসুন, নির্ভয়ে বাঁচুন।'
'আমি মির্জা আলমগীর আপনাদের সঙ্গে আছি। আপনাদের জন্য যদি শহীদ হতে হয়, তবে সে শহীদ আমি হবো,' যোগ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, 'ভাইয়েরা, আমি আপনাদেরই একজন। আমি সবসময় আপনাদের জন্য কথা বলেছি, আপনাদের জন্য সংগ্রাম করেছি, আপনাদের সঙ্গে লড়াই করেছি। হাজার হাজার বছর ধরে আমরা হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে বসবাস করছি। এখানে কোনো বিভাজন আমরা চাই না।'
'আমি সবসময় বলেছি, আজও বলছি—আমার দল বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না,' বলেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'আজ আমাদের আনন্দের বিষয় হলো—হিন্দু ও মুসলমান একইভাবে ভাবছে। আমরা এই দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি যারা করে, তাদের কোনো জায়গা দিতে চাই না। বিষয়টি খুবই পরিষ্কার।'
তিনি বলেন, 'একটি দল আছে, যারা আমার মুসলমান ভাইদের বিভ্রান্ত করছে। বলছে, অমুককে ভোট দিলে বেহেশতে যাবে। আমার ইসলামী বিশ্বাসে এ রকম কোনো কথা নেই। যারা সৎকর্ম করে এবং আল্লাহর পথে চলে, তারাই জান্নাত লাভ করবে—এর বাইরে কিছু নেই। যারা ওইসব কথা বলে, তারা সত্য কথা বলছে না।'
মির্জা ফখরুল বলেন, '১৯৭১ সালে আমরা এই দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। বহু মানুষকে শহীদ হতে হয়েছে, মা-বোনদের ইজ্জত-সম্ভ্রম গেছে। এই দেশের জন্য, বাংলাদেশের জন্য। সেই সময় এই দলটি পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করেছে। বাংলাদেশকে ওরা মানতে চায় নাই। আপনারা কি ভুলে গেছেন? ভুলবেন না।'
তিনি বলেন, 'এই দলটিকে বিশ্বাস করা যায় না, কারণ তারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি এবং আজ পর্যন্ত একবারও ক্ষমা চায়নি বা অনুতাপ প্রকাশ করেনি।'
গত ১৫–১৬ বছরে দেশের ক্ষতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, 'কিছু লোক ব্যাংক খালি করেছে, টাকা বিদেশে নিয়ে গেছে, বিদেশে ব্যবসা-বাড়ি করেছে। আমাদের ব্যাংকগুলো এখন খালি হয়ে গেছে। আমি আগেও বলতাম ব্যাংকগুলো ফাঁপা। এখন আমাদের সেগুলো ঠিক করতে হবে।'
তিনি বলেন, 'ঝড়ে যদি কোনো বাড়ি ভেঙে যায়, আমরা হাল ছেড়ে দিই না—আমরা সেটি আবার গড়ে তোলার চেষ্টা করি। এখন আমাদের সেই বাড়িটা আবার গড়ে তুলতে হবে। এখন ঝগড়ার সময় নয়। সঠিক মানুষকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠালে আমরা বাংলাদেশকে আবার গড়ে তুলতে পারবো।'
তিনি বলেন, 'মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আমি ১৫ বছর সংগ্রাম করেছি। আমার বিরুদ্ধে ১১৭টি মামলা হয়েছে, ১১ বার জেলে গেছি, সাড়ে ৩ বছর কারাভোগ করেছি। আমার কোনো আক্ষেপ নেই। আমাদের আনন্দ এই যে, আমরা ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছি, এখন ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি এবং দেশকে ভালো করার একটি সুযোগ সামনে এসেছে।'