জামায়াত দেশকে আফগানিস্তানে পরিণত করতে চায়: মির্জা ফখরুল
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকে আফগানিস্তানের মতো পিছনের দিকে নিয়ে যেতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ সোমবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলারহাট এলাকায় এক নির্বাচনী সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী এ দেশটাকে আফগানিস্তানে পরিণত করতে চায়। আমাদের পিছন দিকে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। পুরুষ-মহিলা সবাই সমান অধিকার নিয়ে এদেশে বাস করতে চাই।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে পত্রিকায় একটা খবর বের হয়েছে, মহিলারা মিছিল করেছে। জামায়াতের আমির সাহেব নাকি মাহিলাদের বিরুদ্ধে বাজে কথা বলছেন। আমি ডিটেইলস (বিস্তারিত) জানি না, এটা সত্য না মিথ্যা। তার টুইটার নাকি হ্যাক করা হয়েছে। তবে তিনি যদি এ কথা বলে থাকেন, তবে অন্যায় করেছেন। মহিলারা কখনোই এটা মেনে নিতে পারবে না।
নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী মহিলাদের কাজ করতে দিতে চায় না। তারা বলে—মহিলারা ঘবে থাকবে, কাজ করবে কী? যেসব মহিলা গার্মেন্টসে কাজ করেন, তাদের বলে দিয়েছে তারা পাঁচ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে পারবে না। কাজ না করলে তারা খাবে কী?
জামায়াতকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের কাছে কি আমরা এই দেশটাকে নিরাপদ মনে করতে পারি? তাহলে কি তারা আমাদের কাছে ভোট আশা করতে পারে?
এই নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ গঠন ও দেশ পুনর্গঠনের সুযোগ এসেছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, একটা সুশাসনের দেশ, ন্যায়বিচারের দেশ, ইনসাফের দেশ, হিন্দু–মুসলিম ঐক্যের দেশ হিসেবে আমরা এদেশকে গড়ে তুলতে চাই। এ কারণে এই নির্বাচনটাকে আমরা অনেক গুরুত্ব দিচ্ছি।
দলের নেতৃত্বে তারেক রহমানের পর তার স্থান রয়েছে এবং ক্ষমতায় এলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, এখানে যদি কাজ করতে হয়, এলাকার উন্নয়ন করতে হয়, ছেলেমেয়েদের চাকরি-বাকরির ব্যবস্থা করতে হয়, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হয়, তাহলে আমার কথাটা আপনাদের চিন্তা করতে হবে।
এ সময় ঠাকুরগাঁওয়ে একটি মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিমানবন্দর চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন মির্জা ফখরুল। এছাড়া কল-কারখানা গড়ে তুলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও এলাকার সনাতনী ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি স্থাপনের উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।
পরে তিনি ভোলারহাট ও আখানেগর ইউনিয়নে গণসংযোগের পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখেন।
গণসংযোগে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।