শেরপুরে বিএনপি নেতাদের জামিনে ক্ষুব্ধ জামায়াত
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় শেরপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হকসহ দলটির ৪০ জন নেতাকর্মীকে আগাম জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট।
এ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
তিনি বলেন, 'এ মামলায় আগাম জামিন দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই, বিশেষ করে যখন এমন নৃশংস ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর হত্যাকারীরা প্রকাশ্য দিবালোকে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, 'নিহতের স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের যন্ত্রণা-কষ্ট এখনো শেষ হয়নি। সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ রয়েছে।'
জুবায়ের বলেন, 'এমন পরিস্থিতিতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও খুনিদের জামিন দেওয়া নিঃসন্দেহে আইনের শাসনের ওপর বড় আঘাত। আমরা এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছি এবং উচ্চ আদালতে যাবো।'
'আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবহেলা করছে,' বলেন তিনি।
গত ২৮ জানুয়ারি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই দিন শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ উপলক্ষে ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়ামে একটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষ হয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
সন্ধ্যার আগে জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল সমর্থকদের নিয়ে শহরের দিকে যেতে চাইলে প্রশাসনের বাধার মুখে পড়েন। এরপর বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে সেদিন রাতেই তিনি মারা যান।
রেজাউল করিম জামায়াতের শ্রীবরদী উপজেলা ইউনিটের সেক্রেটারি ছিলেন।
৩০ জানুয়ারি রাতে তার স্ত্রী মারজিয়া বেগম ঝিনাইগাতী থানায় ২৩১ জনের নাম উল্লেখ ও প্রায় ৫০০ জন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ওই আসনের বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হককে প্রধান আসামি করা হয়।
এর আগে আজ আগাম জামিনের আবেদনগুলোর শুনানি শেষে বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লা ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিএনপির ওই নেতাকর্মীদের ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেন।