‘মেয়াদ শেষে পিটিয়ে বের করে দেবো’, চবি হল সংসদ ভিপিকে ছাত্রদল নেতার হুমকি

নিজস্ব সংবাদদাতা, চবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অতীশ দীপঙ্কর হল ইউনিয়নের সহ-সভাপতি (ভিপি) রিপুল চাকমাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চবি ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

তবে নাসিমের দাবি, তাকে গালাগালের পর তিনি হুমকি দিয়েছেন।

অনুমতি ছাড়া কয়েকজন শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করছেন—এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাতে হলের এক আবাসিক শিক্ষক ও হল সংসদের কয়েকজন ৩১৩ নম্বর কক্ষে গেলে এ ঘটনা ঘটে।

হল সংসদ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ পেয়ে সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক ড. মো. নূরে আলম ও হল সংসদের একাধিক সদস্য ওই কক্ষে যান। তবে অননুমোদিত কোনো শিক্ষার্থীর থাকার প্রমাণ তারা পাননি। পরবর্তীতে তাদের সাথে কক্ষের শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডা হয়।

ওই হল সংসদের ভিপি রিপুল জানান, সেসময় ছাত্রদল নেতা নাসিম তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, 'চাকসুর মেয়াদ আর ঠিক ২৮ দিন আছে। তারপর তোকে পিটিয়ে বের করে দেবো।'

রিপুল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গতকাল আমি এক শিক্ষার্থীকে জিনিসপত্র নিয়ে হলে আসতে দেখি এবং তিনি বলছিলেন যে ৩১৩ নম্বর কক্ষে উঠেছেন। আমি বিষয়টি গ্রুপে আলোচনা করি। পরে আমরা শিক্ষকের সঙ্গে সেখানে যাই। একপর্যায়ে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়।'

এই কক্ষটি নিয়ে আগেও ঝামেলা ছিল বলে অভিযোগ তার।

রিপুর বলেন, 'এই রুমটা নিয়ে আগেই ঝামেলা আছে। বিশেষ বিবেচনায় সেখানে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিটা রুমে ৪টি করে সিট থাকলেও তারা ৫টা নিয়েছে। আমাদের প্রার্থনাকক্ষ থেকে একটা সিট নিয়ে সেখানে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই হলে সিট বরাদ্দের সময় একটি রুম খালি রেখে পরে ছাত্রদল পরিচয়ে শিক্ষার্থীদের আনা হয়।'

তবে নাসিমকে গালাগাল করার অভিযোগ অস্বীকার করে রিপুল বলেন, 'আমি কাউকে গালাগাল করিনি।'

নাসিম আরও বলেন, 'আমি তাকে আমাদের রুম নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করতে নিষেধ করেছি। তখন তিনি বলেন এটা তার অধিকার। তিনি আমাকে গালাগাল করলে আমি তাকে হুমকি দিই। আমাকে গালাগাল করার জন্য তো তাকে ভিপি বানানো হয়নি। আমি তাকে হুমকি দিয়েছি ঠিকই, তবে তিনি আগে গালাগাল করার সেটা বলেছি।'

হলের সিনিয়র আবাসিক শিক্ষক ড. মো. নূরে আলম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'অভিযোগ পেয়ে আমি ৩১৩ নম্বর রুমে যাই। কিন্তু সেখানে থাকা শিক্ষার্থীরা জানায় যে অননুমোদিত কেউ সেখানে ছিল না। কয়েকজন অতিথি ছিলে। এরপরই কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।'

সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুল ইসলাম বলেন, 'ওই কক্ষে অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থী থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়লে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।'