আরামবাগের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত, প্রথম বিভাগে অবনমন

ক্রীড়া প্রতিবেদক

আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের বিরুদ্ধে ওঠা ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তের পর তাদেরকে কঠোর শাস্তি দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি আগামী দুই মৌসুমের জন্য তাদেরকে প্রথম বিভাগে অবনমিত করা হয়েছে। এছাড়া, খেলোয়াড়-কর্মকর্তা মিলিয়ে দলটির মোট ২০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাফুফে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) পাঠানো চিঠির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সবশেষ ২০২০-২১ মৌসুমে লাইভ বেটিং/স্পট ফিক্সিং/ম্যাচ ম্যানিপুলেশন/অনলাইন বেটিংয়ের অভিযোগে আরামবাগের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে বাফুফের পাতানো খেলা শনাক্তকরণ কমিটি। তদন্ত শেষে তারা যে প্রতিবেদন তৈরি করে, সেটার ভিত্তিতে শাস্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাফুফের ডিসিপ্লিনারি কমিটি।

আরামবাগকে জরিমানা করা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। আগামী দুই মৌসুম তাদের খেলতে হবে প্রথম বিভাগে। উল্লিখিত সময়ের মধ্যে পয়েন্ট তালিকা অনুযায়ী তারা বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে উন্নীত হলেও সেটা কার্যকর হবে না। তবে তারা অবনমিত হলে তা কার্যকর হবে।

প্রিমিয়ার লিগের সবশেষ মৌসুমে ১৩ দলের মধ্যে ১২তম হয়েছিল আরামবাগ। ফলে তারা অবনমিত হয়েছিল চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে। কিন্তু ফিক্সিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শাস্তিস্বরূপ তাদেরকে নেমে যেতে হচ্ছে আরও এক ধাপ নিচে অর্থাৎ প্রথম বিভাগে।

আরামবাগের ৬ জন কর্মকর্তা ও ১৪ জন খেলোয়াড়কে দেওয়া হয়েছে নানা মেয়াদের সাজা। ক্লাবটির সাবেক সভাপতি ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজ, সাবেক টিম ম্যানেজার গওহর জাহাঙ্গীর রুশো, সাবেক ফিটনেস ট্রেইনার ভারতীয় নাগরিক মাইদুল ইসলাম শেখ ও সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট টিম ম্যানেজার আরিফ হোসেনকে ফুটবল সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দলটির সাবেক ফিজিও ভারতীয় নাগরিক সঞ্জয় বোস ও সাবেক গেম অ্যানালিস্ট ভারতীয় নাগরিক আজিজুল শেখ ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন। তাদের সাবেক ফুটবলার আপেল মাহমুদ নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন ৫ বছরের জন্য। ৩ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে ৮ খেলোয়াড়কে। তারা হলেন আবুল কাশেম মিলন, আল আমিন, মো. রকি, জাহিদ হোসেন, কাজী রাহাদ মিয়া, মোস্তাফিজুর রহমান সৈকত, শামীম রেজা ও অস্ট্রেলিয়ার ব্র্যাডি ক্রিস্টিয়ান। আরও ৫ ফুটবলার নিষিদ্ধ হয়েছেন ২ বছরের জন্য। তারা হলেন নাইজেরিয়ান ক্রিস্টোফার চিজোবা, ওমর ফারুক, রাকিবুল ইসলাম, মেহেদী হাসান ফাহাদ ও মিরাজ মোল্লা।

পেশাদার ফুটবলের বিভিন্ন স্তরে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ নতুন নয়। দেশের গণমাধ্যম এ নিয়ে সরব থাকলেও বাফুফেকে সেভাবে নড়েচড়ে বসতে কখনও দেখা যায়নি। নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েই তারা শেষ করত তাদের দায়িত্ব। এবার যদিও শীর্ষ পর্যায়ের একটি ক্লাবের বিরুদ্ধে তারা কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এএফসির। আরামবাগের তিনটি ম্যাচ নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলার পর তদন্তে নামে বাফুফে।

ম্যাচগুলো ছিল আবাহনী লিমিটেড, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের বিপক্ষে। সবকটিতেই বড় ব্যবধানে হেরেছিল আরামবাগ।