নরসিংদীতে কিশোরীকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫
নরসিংদীর মাধবদীতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে এক কিশোরীকে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘গতরাতে ওই কিশোরীর মা ফাহিমা বেগম মাধবদী থানায় আটজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তার মেয়েকে অপহরণ করে ফসলের জমিতে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে, যাতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা চাপা দেওয়া যায়।’
স্থানীয় নুরুল ইসলামকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, মহিষাশুড়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আহম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), তার ছেলে ইমরান দেওয়ান (২৫), প্রধান আসামি নুরুলের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব (৩৬), এবায়দুল্লাহ (৩৮) ও হোসেন বাজার এলাকার আবদুল গাফফার (৪০)।
নিহত কিশোরী একটি পোশাক কারখানার কাজ করতো এবং পরিবারের সঙ্গে দড়িকান্দি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো।
নিহতের বাবা আশরাফ হোসেনের অভিযোগ, প্রায় ১৫ দিন আগে নুরুলের নেতৃত্বে ছয় যুবকের একটি দল তার মেয়েকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে।
তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, এ ঘটনায় মামলা করার চেষ্টা করলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
‘থানায় যাওয়ার পথে আমাদের আটকে দেওয়া হয়। ভয় পেয়ে বাড়িতে চলে আসি,’ বলেন তিনি।
আশরাফ জানান, পরে তারা মহিষাশুড়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আহম্মদ আলীর কাছে ঘটনাটি জানান, যিনি সামাজিক সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করেন।
নিহতের বাবার অভিযোগ, সালিশের সময় আহম্মদ আলী অভিযুক্তদের সঙ্গে সমঝোতা করে মোটা অঙ্কের টাকা নেন। এরপর তাদের গ্রাম ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
‘কিন্তু নুরুল আমার মেয়েকে অনুসরণ করতেই থাকে। নিরাপত্তাহীনতায় আমরা তাকে অন্যত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিই’, বলেন তিনি।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আশরাফ হোসেন মেয়েকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পথে বরইতলা এলাকা থেকে নুরুল ও তার সহযোগীরা তাকে অপহরণ করে।
অনেক খোঁজাখুঁজির পরও মেয়েকে না পেয়ে তিনি আহম্মদ আলীকে বিষয়টি জানান।
‘পরে বৃহস্পতিবার সকালে সরিষা ক্ষেতে মেয়ের মরদেহ পাওয়া যায়’, বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘তারা আমার মেয়েকে পুনরায় ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।’
তবে আহম্মদ আলী কোনো সালিশে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। জানান, সেদিন রাতে তার কাছে যখন পরিবারটি যায় তখন তিনি বাড়িতে ছিলেন না।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফরিদা গুলশানা কবির জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং আজ শুক্রবার ময়নাতদন্ত করা হবে।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, ‘ওই কিশোরীর মরদেহ গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।’