এমবাপেকে দর্শকদের দুয়ো, শুনতে পাননি দাবি পচেত্তিনোর

স্পোর্টস ডেস্ক

পার্ক দি প্রিন্সেসে তখন উৎসবমুখর পরিবেশ। একটু আগেই দলের নতুন খেলোয়াড়দের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। লিওনেল মেসি, সার্জিও রামোস, জিয়ানলুইজি দোন্নারুমা, জর্জিনিও ভাইনালডাম ও আশরাফ হাকিমি মাঠে প্রবেশ করেছেন আতশবাজির রঙিন আলোর ঝলকানি আর উপস্থিত প্রায় ৪৮ হাজার দর্শকের আকাশ-বাতাস কাঁপানো চিৎকার ও করতালির মধ্য দিয়ে।

হাকিমি ও ভাইনালডাম ছাড়া বাকি তিনজনকে অবশ্য ম্যাচের স্কোয়াডে রাখেননি প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি) কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। তাদের পাশাপাশি নেইমার, আনহেল দি মারিয়া ও লেয়ান্দ্রো পারদেসও ছিলেন অনুপস্থিত। তারপরও কিলিয়ান এমবাপে, মাউরো ইকার্দি ও ইউলিয়ান ড্রাক্সলারের মতো তারকা থাকায় স্ত্রাসবুর্গের বিপক্ষে পিএসজির একাদশ দাঁড়ায় ভীষণ শক্তিশালী।

কিছুক্ষণ পরই শুরু হবে খেলা। স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে ভেসে উঠছে ফরাসি ক্লাব পিএসজির ফুটবলারদের জার্সি নম্বর, নাম ও ছবি। কিন্তু এমবাপের পালা আসতেই বদলে গেল দর্শকদের হাবভাব। যারা এতক্ষণ আনন্দে উদ্বেলিত ছিলেন, তারা উঠলেন তেতে। রাগে-ক্ষোভে নিজেদের দলের বিশ্বকাপজয়ী তারকাকে তারা শোনালেন দুয়ো!

কারণটা বোধগম্য! ২২ বছর বয়সী ফরাসি স্ট্রাইকার এমবাপের পিএসজি ছাড়ার গুঞ্জন চলছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ তাকে পেতে আগ্রহী অনেক দিন ধরে। যদিও স্ত্রাসবুর্গের বিপক্ষে ম্যাচের আগে পচেত্তিনো জানান, জল্পনা-কল্পনা নিয়ে চিন্তিত নন তিনি, বরং এমবাপেকে 'আমাদেরই একজন' হিসেবে উল্লেখ করেন, তবুও ভক্ত-সমর্থকরা যেন আশ্বস্ত হতে পারেননি।

শনিবার রাতের ম্যাচে দুয়ো পেলেও ভড়কে যাননি এমবাপে। পিএসজির ৪-২ গোলের জয়ে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে উজ্জ্বল। পাবলো সারাবিয়ার গোলে অবদান রাখার পাশাপাশি নিজেও খুঁজে নেন জালের ঠিকানা।

তবে ম্যাচের পর দুয়োর প্রসঙ্গ এড়িয়ে ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপের কাছে এমবাপের প্রশংসায় মাতেন পিএসজি কোচ, 'আমি দুয়ো শুনতে পাইনি। আমি তাকে নিয়ে খুবই খুশি। তার যেটা করা উচিত, সে সেটার দিকেই মনোযোগী। সে দারুণ একটি ম্যাচ খেলেছে। তাকে এই পথেই এগোতে হবে।'

শুরুর আধা ঘণ্টার মধ্যেই স্ত্রাসবুর্গের গোলপোস্টে তিনবার বল পাঠিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় পিএসজি। তৃতীয় মিনিটে ইকার্দির হেডের পর ২৫তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এমবাপে। দুই মিনিট পর ডি-বক্সে ফাঁকায় থাকা ড্রাক্সলার করেন লক্ষ্যভেদ।

বিরতির পর ঘুরে দাঁড়িয়ে লড়াই জমিয়ে তোলে সফরকারীরা। ৫৩তম মিনিটে কেভিন গামেইরোর নিশানা ভেদ করার পর ৬৪তম মিনিটে লুদোভিক আজোর্ক স্কোরলাইন ৩-২ করেন। কিন্তু তাদের চমক দেখানোর আশা শেষ হয় যায় ৮১তম মিনিটে। অ্যালেকজান্ডার জিকু দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে দশ জনের দলে পরিণত হয় স্ত্রাসবুর্গ।

প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে পাঁচ মিনিট পর পিএসজির জয় নিশ্চিত করেন সারাবিয়া। এমবাপের কাটব্যাকে বল পেয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেননি তিনি। তাতে ফরাসি লিগ ওয়ানে টানা দ্বিতীয় জয়ের স্বাদ নেয় প্যারিসিয়ানরা। আসরের প্রথম ম্যাচে ত্রোয়েসের মাঠে তারা জিতেছিল ২-১ গোলে।