গ্রিনউডের বিরুদ্ধে বান্ধবীকে নির্যাতনের অভিযোগ, যা বলছে ইউনাইটেড
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তরুণ ফরোয়ার্ডদের মধ্যে অন্যতম ম্যাসন গ্রিনউড। ইতোমধ্যে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন তিনি। চলতি মৌসুমেও আছেন দারুণ ছন্দে। কিন্তু ২০ বছর বয়সী এই ফুটবলারের বিরুদ্ধে গুরুতর এক অভিযোগ করেছেন তার বান্ধবী হ্যারিয়েট রবসন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে অনেকগুলো ভিডিও ও ছবি পোস্ট করে তিনি দাবি করেছেন, তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছেন গ্রিনউড।
পেশায় রবসন একজন মডেল। রোববার পোস্ট করা ছবি ও ভিডিওগুলোর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, 'তাদের উদ্দেশ্যে, যারা জানতে চায় ম্যাসন গ্রিনউড আমার সঙ্গে কী কী করে।'
যে ছবি ও ভিডিওগুলো পোস্ট করা হয়েছে, সেগুলো রীতিমতো ভয়াবহ। একটিতে দেখা যায়, রবসনের ঠোঁটে গভীর ক্ষত রয়েছে এবং তার থুতনি ও গলা বেয়ে রক্ত ঝরছে। অন্যগুলোতে দেখা যায়, তার শরীরের বিভিন্ন অংশে, যেমন- হাত, কাঁধ ও পায়ে, আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গত বছরের অক্টোবর মাসের একটি অডিও শেয়ারও করেছেন রবসন, যেখানে তাকে কোনো একজনের সঙ্গে উচ্চস্বরে তর্ক করতে শোনা যায়। কারণ, ওই ব্যক্তিটি তাকে আক্রমণের হুমকি দিয়েছিলেন।
রবসনের অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই নাড়া দিয়েছে গোটা বিশ্বের ফুটবল ভক্তদের। ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অভিযোগের ব্যাপারটি পুলিশের নজরেও এসেছে।
গত ২০২০ সালের শেষদিকে আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন গ্রিনউড ও রবসন। কারণ, ইংল্যান্ডের হয়ে আইসল্যান্ডে ম্যাচ খেলতে গিয়ে কোভিড প্রোটোকল ভেঙে দুই নারীকে হোটেলে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন গ্রিনউড। ওই ঘটনায় তার পাশাপাশি জড়িত ছিলেন ফিল ফোডেন। ইংল্যান্ড দল থেকে তাদেরকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন চিড় ধরেছিল গ্রিনউড ও রবসনের সম্পর্কে। পরে অবশ্য ফের একত্রিত হন তারা।
রবসনের অভিযোগের ব্যাপারে অবগত হয়েছে ম্যান ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ। তারা একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও দিয়েছে। তবে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজী নয় তারা।
ইউনাইটেডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ছবি ও অভিযোগ সম্পর্কে সচেতন আছি। যতক্ষণ না অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আর কোনো মন্তব্য করব না। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোনো ধরনের সহিংসতাকে প্রশ্রয় দেয় না।'