চিলির জালে ব্রাজিলের গোল উৎসব
ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখল ব্রাজিল। বল দখল ও আক্রমণ- দুই বিভাগেই আধিপত্য দেখাল রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তাদের গোল উৎসবের কোনো পাল্টা জবাব দিতে পারল না চিলি। বড় ব্যবধানে হেরে কাতার বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব থেকেই ছিটকে যাওয়ার শঙ্কা প্রবল হলো দলটির।
শুক্রবার সকালে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইয়ের ম্যাচে ৪-০ গোলে জিতেছে তিতের শিষ্যরা। ঘরের মাঠ মারাকানা স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে লক্ষ্যভেদ করেন চোটের কারণে ব্রাজিলের সবশেষ তিনটি ম্যাচে খেলতে না পারা নেইমার ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ান বদলি নামা ফিলিপে কৌতিনহো ও রিচার্লিসন।
স্বাগতিকরা খেলতে নামে একাদশে সাত পরিবর্তন নিয়ে। প্রতিপক্ষের গোলমুখে ১৮ শট নিয়ে তারা লক্ষ্যে রাখে নয়টি। অন্যদিকে, রক্ষণ সামলাতে হিমশিম খাওয়া চিলির ১০ শটের মাত্র দুটি ছিল লক্ষ্যে।
রেফারি খেলা শুরুর বাঁশি বাজানোর পর বারবার চিলির রক্ষণে হানা দিয়েও গোল পাচ্ছিল না সেলেসাওরা। ২৩তম মিনিটে ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে নেইমার ক্রস ফেলেন ডি-বক্সে। তবে থিয়াগো সিলভার হেড অসাধারণ কায়দায় লুফে নেন চিলি গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভো। ৩৭তম মিনিটে আন্তোনির শট থাকেনি লক্ষ্যে। পরের মিনিটে পিএসজি ফরোয়ার্ড নেইমারকেও হতাশ করেন ব্রাভো।
পাঁচ মিনিট পর অবসান হয় ব্রাজিলের অপেক্ষার। সফল স্পট-কিকে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের ৭১তম গোলের দেখা পান নেইমার। তাকেই ডি-বক্সে মরিসিও ইসলা ফাউল করায় পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি। ধাক্কা সামলে না উঠতেই ফের গোল হজম করে সফরকারীরা। ডি-বক্সের বামদিক থেকে আন্তোনির পাস পেয়ে নিচু শটে নিশানা ভেদ করেন রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস।
বিরতির পর ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে ব্যবধান প্রায় বাড়িয়েই ফেলেছিল ব্রাজিল। জালের দিকে যাওয়া বল একদম শেষ মুহূর্তে বিপদমুক্ত করেন ক্লদিও বায়েজা। দশ মিনিট পর ফের পেনাল্টির বাঁশি বেজে ওঠে। ডি-বক্সে আন্তোনিকে ফাউল করে হলুদ কার্ডও দেখেন ব্রাভো। এই দফায় স্পট-কিক নেওয়ার দায়িত্ব পড়ে কৌতিনহোর কাঁধে। অ্যাস্টন ভিলার ফরোয়ার্ড সুযোগ কাজে লাগাতে কোনো ভুল করেননি।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ব্রাজিলের বড় জয় নিশ্চিত করেন রিচার্লিসন। মাঠে নামার ১৬ মিনিটের মধ্যে গোলের স্বাদ নেন এভারটন স্ট্রাইকার। ব্রুনো গিমারেসের পাসে ডি-বক্সের ভেতরে জায়গা করে নিয়ে চিলির জাল কাঁপান তিনি। ব্রাভোকে গোলপোস্টের নিচে কঠিন সময় পার করতে হলেও ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসনের অবস্থা ছিল ভিন্ন। তেমন কোনো পরীক্ষা দিতে হয়নি তাকে।
এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে নিজেদের অবস্থান মজবুত করল এবারের বাছাইয়ে অপরাজিত থাকা ব্রাজিল। ১৬ ম্যাচে ১৩ জয় ও ৩ ড্রয়ে তাদের পয়েন্ট ৪২। এক ম্যাচ কম খেলে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন ফিকে হয়ে যাওয়া চিলির পয়েন্ট ১৭ ম্যাচে মোটে ১৯। তারা আছে দশ দলের তালিকার সাত নম্বরে।